ঢাকা: ২০১৮-১১-১৪ ২১:০৬

Khan Brothers Group

অধিকাংশ ব্যাংকের মুনাফায় ধস

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:০০ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৫:২১ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান আর্থ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টম্বর’১৭) শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত ৩০ ব্যাংকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে । প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৬ ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) আগের তুলনায় কমেছে। মাত্র ১১ ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে। এছাড়া মুনাফা থেকে লোকসানে রয়েছে ১টি, লোকসানে বেড়েছে ১টির এবং লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে ১টি ব্যাংক।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) ০.৭৩ টাকা। যা এর আগের একই সময় ছিল ১.২৫ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.৫২ টাকা।

এরপরেই রয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) ০.৭১ টাকা। যা এর আগের একই সময় ছিল ১.০৪ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.৩৩ টাকা।

এছাড়া আল-আরফাহ ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩১ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ০.৬০ টাকা। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ০.২৯ টাকা।

ব্রাক ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.১৯ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১.৪১ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.২২ টাকা।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫৩ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৬০ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৭ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.১৩ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.২৪ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.১১ টাকা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭৬ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৮৫ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৯ টাকা।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৭৩ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.৩৫ টাকা।

প্রিমিয়াম ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৪ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৫০ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৬ টাকা।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৫ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৫২ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৭ টাকা।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.১৫ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.১৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৪ টাকা।

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৪ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৫৪ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.১০ টাকা।

সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৮৪ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১.১২ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.২৮ টাকা।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.০২ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.২৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.২৭ টাকা।

আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.১৭ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৪১ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.২৪ টাকা।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.২৬ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৩০ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস কমেছে ০.০৪ টাকা।

এদিকে, তৃতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় বেড়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫.১৭ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩.১৬ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ২.০১ টাকা।

এরপরেই রয়েছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪৯ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.১১ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.৩৮ টাকা।

এছাড়া তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭২ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৫৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.১৩ টাকা।

সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৮৯ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ০.৮২ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.০৭ টাকা।

ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.০৬ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১.০৩ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ০.০৩ টাকা।

যমুনা ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৭২ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ০.৩৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটি ইপিএস বেড়েছে ০.৩৩ টাকা।

ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪০ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ০.৩৯ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটি ইপিএস বেড়েছে ০.০১ টাকা।

এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৮ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ০.৭৩ টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটি ইপিএস বেড়েছে ০.২১ টাকা।

পূবালী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৫২ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার

তৃতীয় প্রান্তিকে বেশিভাগ ব্যাংকের ইপিএস কমে যাওয়ার জন্য অনেকেই বাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলো ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। এই সেক্টরের ভালো বা মন্দের ওপর শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল করে থাকে। তাই বাজারে ব্যাংকগুলোর ইপিএস কমে গেলে বাজারে অনেকটাই নেতিবাচক প্রভাব পরার সম্ভাবনা থাকে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর ইপিএস কমার পিছনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন তারা।

ও/র