ঢাকা: ২০১৮-০৫-২১ ১১:০০

Khan Brothers Group

অনিদ্রা দূর করতে জিরা চা!

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:১০ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০৭:৩৫ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি


ফিচার ডেস্ক: ঘুমের সমস্যার কারণে বহু মানুষই অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করেন। পুরো রাত বিছানায় গড়াগড়ি করার পরও ঘুমের দেখা মেলে না। অনেক কষ্টে ঘুম এলেও ভেঙে যায় কিছুক্ষণ পরপর। আবার অনেকে রাতে ঘুমালেও সকালে উঠেই অনুভব করেন ক্লান্তি ভাব। আর রাতে ভালো ঘুম না হলে সারাদিন মেজাজ থাকে খিটখিটে ও চড়া। ক্লান্তি পেয়ে বসে সারা শরীরে এবং কাজেরও সমস্যা হয়।  এই ঘুম না হওয়া বা অনিদ্রার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ঘুমের ওষুধের সহায়তা নেন। কিন্তু ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমালেও তা তৃপ্তির হয় না। কারণ এই ওষুধের রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অথচ একটু জিরা চা আপনাকে দিতে পারে শান্তির ঘুম।

ঘুম কেন হয় না

সাধারণত অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ইনসমনিয়া বা অনিদ্রার মূল কারণ। এ ছাড়া ডিপ্রেশন বা অবসাদগ্রস্ততা, টেনশন, দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি জানায়, বেশ কিছু কারণে মানুষের ঘুম না হতে পারে। এ জন্য মানসিক চাপ, ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যবহার, ঘুমানোর আগে ধূমপান, ব্যায়াম না করা, মদ্যপান, রাতে কফি পান, রাতে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, শোবার ঘরে উজ্জ্বল আলো ও হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘুম না হতে পারে।

অনিদ্রা ও ভিটামিন

স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি জানায়, সাত ধরনের ভিটামিন অনিদ্রা রোগ সারাতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভিটামিন ও মিনারেল মানুষের ঘুমের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি (বি-৩, বি-৫,বি-৯,বি-১২), ক্যালসিয়াম, ম্যাগনিশিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ট্রিপটোফান ও মেলাটোনিনের মতো ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব কম ঘুম বা অনিদ্রা্র অন্যতম কারণ বলে মত দিয়েছেন ঘুম ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকার স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়, খাওয়ার পর ঘুমের ভাব এবং তার স্থায়িত্ব নির্ভর করে খাবারের ওপর। বেশি বেশি প্রোটিন এবং লবণসমৃদ্ধ খাবার খেলে বেশি ঘুম পায় বলে জানানো হয় গবেষণায়। যেসব খাবারে অতিরিক্ত প্রোটিন ও লবণ রয়েছে সেগুলো খেলে ঘুম বেশি আসে। এ ছাড়া ঘুমও দীর্ঘ সময় ধরে হয়।

প্রধান গবেষক কিথ মার্ফি জানান, খাওয়ার পর ঘুম আসার জন্য এক বিশেষ ধরনের নিউরন কাজ করে। এদের বলা হয় লিউকোকিনিন নিউরন। বিশেষ করে প্রোটিনের উপস্থিতিতে লিউকোকিনিন রিসেপ্টর (এলকেআর) খাদ্য গ্রহণের পর ঘুমের ভাব আনে।

জিরার গুণ

জিরা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে। মনকে শান্ত রাখে এবং স্ট্রেস কমায়, যা আমাদের ঘুম আনতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, জিরায় রয়েছে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও খনিজের উপস্থিতি। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এর পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে।

জিরাতে রিবোফ্লেভিন, জেক্সাথিন, ভিটামিন বি ৬, নিয়াছিন এবং আরো অনেক মিনারেল থাকে যা আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জিরায় আছে থাইমলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল, যা লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। এ ছাড়া জিরার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মেলাটোনিন রয়েছে। এটি মস্তিষ্কে উপকারী কেমিক্যালের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া জিরায় থাইমল, ডিথাইমোকুইনন, থাইমোহাইড্রোকুইনন নামের অ্যান্টিকারসিনোজেনিক উপাদান এবং ইউজিনল ও লিমনিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা নানা রোগ থেকে পরিত্রাণ দেয় শরীরকে।  

কীভাবে খাবেন

আধা লিটার পানিতে এক চা চামচ পরিমাণ জিরা মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটুকু ৫ থেকে ১০ মিনিট সিদ্ধ করুন। কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। হালকা গরম অবস্থায় রাতে শোয়ার আগে অথবা রাতের খাবারের পর খেয়ে নিন। ফুটন্ত জিরাপানিতে মধু মিশিয়েও্ খেতে পারেন।

রাতে ঘুমানোর আগে পাকা কলার ওপর জিরা গুঁড়া ছিঁটিয়ে খাবেন। ব্যস, দেখবেন খুব সহজেই ঘুম চলে আসবে। আপনি মুক্তি পাবেন অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া রোগের হাত থেকে।

জেডসি