ঢাকা: ২০১৯-০৩-২১ ২১:৩৫

Khan Brothers Group

অফিস সময় মানছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:৩৪ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১২:৫৮ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শফিকুল ইসলাম : দেশের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অফিস টাইম মেনে চলছেননা। ফলে কাজ নিতে আসা শতশত জনসাধারণ প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনা ও হয়রানির পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। টেলিফোনে কল করেও সেবাপ্রত্যাশীরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না।গুরুত্বপূর্ণ ফোন কলও রিসিভ করা হয় না অধিকাংশ দপ্তরে। অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাগিদ দেওয়া হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাও মানছেন না।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ইস্যু করা একটি চিঠিতে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।চিঠিটি দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মঈনউল ইসলামের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ (২)স অনুচ্ছেস অনুযায়ী জনগণের সেবা প্রদানের সর্বদা সচেষ্ট থাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সার্বকক্ষনিক দায়িত্ব। সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তি ও নিয়মানুবর্তি হওয়া আবশ্যক। যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতির ফলে কাজের জন্য অনেক বেশি সময় পাওয়া যায়।কার্যক্রম যথাসময়ে শেষ করা যায়। সেবাপ্রত্যাশীরাও যথাযথ সেবা পায়। এতে দপ্তরের ভাবমুর্তি উজ্জল হয়।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দপ্তরে বিলম্বে উপস্থিতি প্রতিরোধের জন্য কঠোর বিধিবিধান রয়েছে। এরপরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কোনো কোনো সরকারি কর্মচারী যথাসময়ে স্ব স্ব দপ্তরে উপস্থিত হন না।ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়।



মন্ত্রিপরিদ বিভাগের চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, টেলিফোন রিসপন্সের সঙ্গে অফিসের ভাবমুর্তির সম্পর্ক রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের অত্যন্ত ভদ্রোচিত ভাষায়  সকল টেলিফোন কল রিসিভ করতে হবে।কোনো কর্মকর্তা টেলিফোন কল রিসিভ করার মত অবস্থায় না থাকলে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে। অথবা সংক্ষিপ্ত আলাপের মাধ্যমে পরে ফোন করার অনুমতি নিতে হবে।

জানা যায়, দেশের অধিকাংশ জেলা উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসের পর মাস ফাঁকিবাজি করে যাচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে থাকা নামমাত্র কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত পাওয়া গেলেও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগকৃত সরকারি কর্মকর্তাদের একেবারেই পাওয়া যায়না। সব সময়ই তালবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের কক্ষগুলো। আর উপজেলা প্রশাসনের কোনো কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা সপ্তাহে একদিন বা দুদিন অফিস করেই মাসের পর মাস পার করে যাচ্ছেন। অনিয়মিত হলেও মাস শেষে জনগণের টাকায় দেয়া সরকারি বেতন তুলে যাচ্ছেন নিয়মিতভাবে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকায় মিটিং, জেলা অফিসে মিটিং, অসুস্থতা, বৃষ্টির সমস্যা বিভিন্ন অজুহাত তুলে দিনের পর দিন অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন সরকারি এসব কর্মকর্তারা। আর সবচেয়ে বেশি ফাঁকিবাজি চলছে ইউনিয়ন পরিষদগুলোয়। সরকারিভাবে নির্মিত পাকা ভবনসম্পন্ন ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের উপ-সহকারি কর্মকর্তাদের নিজস্ব অফিস কক্ষ থাকলেও মাসে একদিনও সেখানে যাননা তারা। কক্ষগুলো সবসময়ই থাকে তালাবদ্ধ। জনগণতো জানেনই না তাদের সেখান থেকে কি সেবা পাওয়ার কথা, এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানরাও পাননা তাদের খোঁজখবর।

একাধিক চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য মিলেছে। এমনকি ওই কর্মকর্তাদের নামও জানেননা ইউপি চেয়ারম্যানরা।