ঢাকা: ২০১৯-০৩-২১ ২১:৩২

Khan Brothers Group

আইএস থেকে মুক্ত হয়ে যা বললেন শামীমা

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:২২ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ০৩:৪০ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০১৫ সালে ব্রিটেন থেকে  ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে যায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম।  গত সপ্তাহে তুমুল লড়াইয়ের মধ্যে শামীমা আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বশেষ এলাকাটি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বর্তমানে ১৯ বছরের তরুণী শামীমা। এটি তৃতীয় সন্তান। তার আগের দুটি সন্তানই অপুষ্টি এবং বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। সিরিয়ায় গিয়ে এই তরুণী নেদারল্যান্ডস থেকে আসা একজন আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেছিলেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীন এলাকা থেকে আরো দুজন বান্ধবী সহ শামীমা বেগম আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।

গত সপ্তাহে লন্ডনের দৈনিক দি টাইমসের একজন সাংবাদিক সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের খোঁজ পান। তার বয়স এখন ১৯, এবং তিনি অন্ত:সত্বা ছিলেন।

ঐ সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেন যে তার আগত শিশু সন্তানের কথা বিবেচনা করে তাকে যেন ব্রিটেনে ফেরত আসতে দেওয়া হয়। সেই থেকে, ব্রিটেনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে যে, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের যোগ দিতে যাওয়া এই তরুণীকে ফেরত আসতে দেওয়া উচিৎ কিনা।

শরণার্থী শিবির থেকে রবিবার স্কাই নিউজকে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি কীভাবে আইএসে যোগ দিতে প্রলুব্ধ হয়েছিলেন তা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নেন সাংবাদিক জন স্পার্কস।

শামীমাকে প্রশ্ন করা হয় আইএসের কোন বিষয়টি আপনাকে আকর্ষণ করেছিল?
জবাবে শামীমা বলেন, তারা (আইএস) দেখিয়েছে যে আপনি সিরিয়া যেতে পারেন এবং তারা আপনার সকল বিষয়ে যত্ন নেবে। আপনি আপনার পরিবারে থাকবেন এবং কিছু করতে পারবেন। তাছাড়া, আপনি ইসলামিক আইনের অধীনে বসবাস করবেন।

সিরিয়ায় যাওয়ার আগে আপনি কি আইএসের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন? যেমন ধরুণ-মানুষকে শিরশ্ছেদ করা এবং মত্যুদণ্ড কার্যকর করা ইত্যাদি?

জবাবে শামীমা বলেন, হ্যাঁ, আমি ওই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতাম। এবং আমি এ বিষয়ে একমত ছিলাম। কারণ, আপনি জানেন যে, আমি সিরিয়া যাওয়ার আগে ধার্মিক হয়ে উঠতে শুরু করেছিলাম। তাছাড়া, আমি শুনেছিলাম যে, ধর্মীয়ভাবে এসবের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আপনি কি জানেন ব্রিটেনে আপনার ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে কি হবে সেটা নিয়ে একটা অনিশ্চিত কাজ করছে?

জবাবে শামীমা বলেন, হ্যাঁ, আমি জানি।

এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি কী?

শামীমা বলেন, আমি যা কিছু করেছি -এ বিষয়ে আমার প্রতি অনেকের সহানুভূতি থাকা উচিত। আমি আশাবাদী, আমার জন্য এবং আমার সন্তানের জন্য আমাকে ব্রিটেনে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। কারণ আমি চিরদিনের জন্য এই ক্যাম্পে থাকতে পারি না। এটা সত্যিই সম্ভব না।

-জেডসি