ঢাকা: ২০১৯-০২-২১ ০:৩৮

Khan Brothers Group

‘আমাকে যেন ভুলে না যাও...’

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:৪৮ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:৫৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক : মানুষের জন্ম-মৃত্যুর খবর কেউ বলতে পারেন না। এটি একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’লা ভালো জানেন। তবে মৃত্যুর আগ মুহূর্তে কেউ কেউ কিছু কাজ করেন, যা তার মৃত্যুর পর মানুষকে ভাবিয়ে তোলে।

দেশের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আজ মঙ্গলবার ভোরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত ২ জানুয়ারি তার ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন- ‘আমাকে যেন ভুলে না যাও... তাই একটা ছবি পোস্ট করে মুখটা মনে করিয়ে দিলাম।’ তা হলে এই পোস্টে তিনি কী চির বিদায়ের কথাই বলে গেলেন আমাদের। এই স্ট্যাটাসের ২০ দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

২ জানুয়ারির তার সেই পোস্টটিতে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ অনুভূতি জানিয়েছিলেন এবং মন্তব্য করেছিলেন ১২শ’র বেশি ভক্ত।

সেই পোস্টে ফজলুল হক নামের একজন ভক্ত মন্তব্য করেছিলেন, ‘বুলবুল ভাই, আপনাকে কি ভুলা যায়! আপনি বাংলার গানের বুলবুল, আপনি স্বাধীন দেশের গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। যতদিন লাল সবুজের পতাকা থাকবে, আপনিও ততদিন সবার হৃদয়ে চিরজীবী থাকবেন।’

নারগিস রহমান নামের অপর এক ভক্ত মন্তব্য করেছিলেন, ‘না না ভাইয়া, আপনি ভুলার মানুষ নয়। আপনি বাংলার সম্পদ। আপনার সুর ও গীতিকার আমাদের মনের খাবার যোগায়। আপনি সুস্থ ও সুন্দর থাকুন, দোয়া করবো সারা জীবন।

আনিকা আনিসা নামে আরও এক ভক্ত লিখেছিলেন, ‘আপনি আছেন এদেশে প্রতিটি মানুষের অন্তরে, তাই আপনাকে ভুলে যাওয়া কখনো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, আপনাকে ভুলে যাওয়া মানে তো নিজেকেই ভুলে যাওয়া, জানিনা কোথায় যাচ্ছেন, দোয়া করি আপনার যাত্রা শুভ হোক, নিরাপদ হোক, এবং সুন্দর হোক, ভালো থাকবেন সব সময়।’

বরেণ্য এই শিল্পী মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় মারা যান তিনি।

প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের একজন সংগীত ব্যক্তিত্ব। একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীতশিল্পে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলী বাদল ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল নিয়মিত গান করেন ১৯৭৬ সাল থেকে।

-জেডসি

Hip's Wear Fashion