ঢাকা: ২০১৯-০৩-২২ ৪:৩৬

Khan Brothers Group

একনেকে ৬২৭৬ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:৩৫ পিএম, ৫ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:১৬ পিএম, ৫ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠক- ছয় হাজার ২৭৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সবগুলোই নতুন প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে তিন হাজার ৩১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করবে। বাকি দুই হাজার ৯৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রকল্প ঋণ।

মঙ্গলবার শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠক (একনেক) শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আজকের একনেক সভায় নদী ও রেলপথের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন করে মহাসড়ক করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু বড় নদীর নাব্য রক্ষা করা নয়, আমাদের ছোট ছোট নদীর দিকেও নজর দিতে হবে।

এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রেল, সড়ক ও নৌপথে যাত্রী সাধারণের চলাচলে একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, নতুন করে মহাসড়ক করার প্রয়োজন নেই। যে মহাসড়ক আছে সেগুলো প্রয়োজনে আরও প্রশস্ত করা হবে।

সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা কী এমন এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যেমন আপনি ধরেন চট্টগ্রাম থেকে একটি টিকেট কিনে ট্রেনে ঢাকা এলেন। সেই টিকেট দিয়েই লঞ্চে বরিশাল বা খুলনা যেতে পারবেন। তিনি বলেন, আমাদের নৌপথে যোগাযোগব্যবস্থা দাদার আমল থেকেই ছিল। কিছু কিছু জায়গায় নদীর নাব্য নেই, সেখানে আমরা নদী খনন করে যোগযোগব্যবস্থা উন্নয়ন করবো।

প্রধানমন্ত্রী তাঁতিদের তালিকা করারও নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

একনেকে জয়পুরহাট জেলার তুলশীগঙ্গা, ছোট যমুন, চিড়ি ও হারাবতী নদী পুনঃখনন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এসব নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বছরব্যপী সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর নাব্য বৃদ্ধি। জানা গেছে, তলদেশে ভরাট হলে যাওয়ায় এসব নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। বর্ষার সময় অতিবৃষ্টি হলে নদীর পানি দুই কূল উপচিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার শুষ্ক মৌশুমে পানির অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি মূলধন সরবরাহ ও তাঁতের আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি টাকা। কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা। জয়পুরহাট জেলায় তুলশী গঙ্গা, ছোট যমুনা, চিড়ি ও হারাবতী নদি পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হযেছে ১২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৮০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সমগ্র দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২২৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রণয়নে প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি টাকা।

এ/কে