ঢাকা: ২০১৮-০৯-২০ ১৪:৫৬

Khan Brothers Group

কৃষিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি-মেশিনারিজের বিকল্প নেই

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:২১ পিএম, ৪ মার্চ ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ১২:৪৬ পিএম, ২২ মে ২০১৮ মঙ্গলবার

পৃথিবীর অন্যসব দেশে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়। বাংলাদেশ কেন ব্যতিক্রম হবে? কৃষিতে বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি এবং মেশিনারিজের কোনো বিকল্প নেই। দাতা সংস্থা আইএফসি, এডিবি ও জাইকা খুব কম সুদে বিভিন্ন খাতে অর্থ দিয়ে থাকে। তারা যদি কৃষিখাতে এসব ঋণ কম সুদে অর্থায়ন করে তাহলে কৃষক নতুন প্রযুক্তি নিতে পারবেন। কৃষকরা যাতে এক থেকে সর্বোচ্চ তিন শতাংশে তহবিলটি পায়, সে ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে করতে হবে। এ ছাড়া যারা কৃষিতে ভালো করছে তাদের উপযুক্ত সম্মাননা দেয়া উচিত। তাতে তাদের পরিবারের সন্তানরাও কৃষিতে উৎসাহিত হবেন। তা না হলে আগামীতে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এমনটাই মনে করেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদশের (ইএবি) সভাপতি, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী। এ ছাড়াও দেশের কর আদায় আরও কিভাবে বাড়ানো যায় এবং রপ্তানি খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন দুই আকাশের এই তারকা। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রিয়াজ চৌধুরী।  

সালাম মুর্শেদী সাবেক জাতীয় ফুটবলার। বিজিএমইএ`র সাবেক সভাপতি। এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) `কর বাহাদুর পরিবার` সম্মাননা পেয়েছেন। করের বাইরেও সিআইপি হিসেবে একাধিকবার সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ৩২ বছর ধরে নিয়মিত কর দিচ্ছেন সালাম মুর্শেদী।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: দেশের কর আদায় আরও কিভাবে বাড়ানো যায়?

সালাম মুর্শেদী : বাংলাদেশে কর আদায়ে পদ্ধতিগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আরও দরকার। এখন কর প্রদানে উৎসাহ বাড়াতে কর মেলা, উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ অনেক আয়োজন করা হয়। সেই অর্থে হয়রানি-ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। কিন্তু কর প্রদানে রিটার্ন দাখিল এখনো জটিল। এসব জটিলতা নিরসন করে করব্যবস্থা আরও সহজ করা দরকার। করের জাল আরও বাড়াতে হবে। এটা করতে হলে বিভাগীয় শহরগুলোতে কর মেলাসহ এ জাতীয় আয়োজন আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অনলাইনে কর দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করদাতারা কর প্রদানে উৎসাহ পাবেন।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: এবার আসি রপ্তানি খাতে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। কারণ কী বলে মনে করেন?

সালাম মুর্শেদী : রপ্তানি খাত বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অনেক চ্যালেঞ্জের  মধ্যে আছে। এর মধ্যে বৈশ্বিক বাজার কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়েছে। এটি একটি কারণ। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পলিসির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পলিসির সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। প্রতিযোগী অনেক দেশ একাধিকবার তা সমন্বয়ও করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে ওইভাবে তা করা হয়নি। একবার দাম কিছুটা কমলেও তা চোখে পড়ার মতো নয়।

 



এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: রপ্তানি খাত কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে?

সালাম মুশের্দী : রপ্তানিমুখী শিল্প সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার মান অতি মূল্যায়িত হওয়ায়। প্রতিযোগী দেশগুলো ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে। আমাদের প্রতিযোগী দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন ও তুরষ্ক রয়েছে। প্রত্যেকের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে। যদি ভারতের কথা বলি, গত চার বছরে তাদের অবমূল্যায়ন হয়েছে ৩৫ শতাংশ। তার্কিতে ১০২ শতাংশ। এ কারণে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশে বিভিন্নভাবে মজুরি, জ্বালানি, পরিবহন, ব্যাংক, বীমাসহ সব খাতে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু পোশাক খাতেই গত তিন বছরে খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে।  কর্মপরিবেশ উন্নয়নে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ব্রান্ড দ্বারা গঠিত হয়। তাদের মাধ্যমে বিল্ডিং এবং ফায়ার সেফটির কাজ শেষ পর্যায়ে। এসব সংস্কারের জন্য প্রতিটি কারখানায় পাঁচ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। সে কারণে সাময়িকভাবে আমাদের কিছু সময়ের জন্য ক্যাপাসিটি সংকুচিত হয়েছে। সংস্কারের কারণে বিনিয়োগ করতে না পারায় ইতোমধ্যে ছোট, মাঝারিসহ ৬০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। একসময় রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, মৌচাকে দেড়শ থেকে ২০০ পোশাক কারখানা ছিল। এখন আছে মাত্র ২৫-৩০ টি।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: রপ্তানি খাতের এ ক্রান্তীলগ্নে সরকার কী সহযোগিতা করতে পারে?

সালাম মুর্শেদী : এ মুহূর্তে রপ্তানি মুদ্রানীতির কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা দরকার। গত তিন বছর বেসরকারি খাত একই জায়গায় ঘুরাফেরা করছে। এ খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২০ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে স্থির হয়ে আছে। বেসরকারি খাত ভালো করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারি এবং সরকারিভাবে গত অর্থবছরে প্রায় শতাধিক ইকোনমিক জোন চূড়ান্ত করেছে। আমার প্রস্তাব হলো- নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে খাতওয়ারি অর্থনৈতিক অঞ্চল চূড়ান্ত করা। এতে উদ্যোক্তারা প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এ জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের জন্য খাতওয়ারি ইকোনমিক জোন ঘোষণা দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: আপনি রপ্তানি খাতে আলাদা মুদ্রানীতি চেয়েছেন। বিশ্বের কোথাও কি নির্দিষ্ট খাতের জন্য মুদ্রানীতি করা হয়?

সালাম মুর্শেদী : পৃথিবীর সব দেশেই রপ্তানি মুদ্রানীতি আছে। শুধু ব্যতিক্রম আমরা। রপ্তানি মুদ্রানীতিটা আমাদের কিন্তু দরকার। এ খাতে নীতি সহায়তা, নতুন বাজারের প্রণোদনা এসব চলমান। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মুদ্রার যে অবমূল্যায়ন হচ্ছে, রপ্তানি মুদ্রানীতি থাকলে আজ গোলটেবিল বৈঠক আর টকশোর কোনো দরকার হতো না। মুদ্রানীতির বিপরীতে রপ্তানিকারকরা সাময়িক কিছু সুবিধা পেতেন। মুদ্রার অবমূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়ে আবার তা বন্ধ করে দেয়া যেত।

 



এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: কৃষি খাতের অনেক পণ্য এখন রপ্তানি হয়। সেক্ষেত্রে কৃষকরা সেভাবে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

সালাম মুর্শেদী : সরকারি বেসরকারিভাবে খাদ্য উৎপাদনে কৃষিখাত বড় বিপ্লব ঘটিয়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এক জমিতে তিন ফসল হচ্ছে। কিন্তু প্রায়ই শুনি, কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের দাম পান না। সরকারকে এদিকে নজর বাড়াতে হবে। কৃষিতে বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি এবং মেশিনারিজের কোনো বিকল্প নেই। কিছু দাতা সংস্থা যেমন আইএফসি, এডিবি ও জাইকা খুব কম সুদে বিভিন্ন খাতে অর্থ দিয়ে থাকে। তারা যদি কৃষিখাতে এসব ঋণ কম সুদে অর্থায়ন করে তাহলে কৃষক নতুন প্রযুক্তি নিতে পারবেন। আমরা শুনি, এসব ফান্ড যখন দেশে আসে তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অর্থাৎ কে কত লাভ করবে। এ ঋণের সুদহার মাত্র দশমিক ৫০ শতাংশ। কৃষকরা যাতে এক থেকে সর্বোচ্চ তিন শতাংশে তহবিলটি পায়, সে ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে করতে হবে। পৃথিবীর অন্যসব দেশে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়। বাংলাদেশ কেন ব্যতিক্রম হবে? এ ছাড়া কৃষকদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করতে হবে। যেমন- সরকার ব্যবসায়ীদের সিআইপি দিচ্ছে, কর বাহাদুর পরিবার ঘোষণা করছে। আমি মনে করি, যারা কৃষিতে ভালো করছে তাদের উপযুক্ত সম্মাননা দেয়া উচিত। তাতে তাদের পরিবারের সন্তানরাও কৃষিতে উৎসাহিত হবেন। ঘোষণা আসতে পারে, যারা এ সম্মাননা পাবেন তারা কম সুদে ব্যাংক ঋণ পাবেন। কৃষকের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে আগামীতে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তির দিক দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাত কোন অবস্থানে আছে?

সালাম মুর্শেদী : আমেরিকার একটি ইউনিভার্সিটির জরিপে দেখা গেছে, গত ১৫ বছরে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়লেও কমেছে পোশাকের। আমাদের খরচ দিন দিন বৃদ্ধি  পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অটোমেশনে যেতে হচ্ছে। আমরা যাতে মেশিনগুলো কম দামে আনতে পারি, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের লো-কস্ট ফান্ড পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর মেশিনগুলো কিন্তু অনেক দামি। এ জন্য সব উদ্যোক্তা সেটা আনতে পারছেন না। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বাজারে টিকে থাকতে অবশ্যই অটোমেশন প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গেছেন। প্রযুক্তির সঙ্গে না থাকলে দামে সমন্বয় করা যাবে না। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের দরকার আছে, সেটা চলছে। প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হলে আন্তর্জাতিক পলিসিগুলোর সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। যেমন চাহিদা থাকলেও এক মৌসুমের পণ্য যদি আরেক মৌসুমে পাঠানো হয়, তাহলে পণ্য বিক্রি হবে না। প্রাইসের সঙ্গে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমাদের একাধিক পোর্ট আছে তারপরও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গভীর সমুদ্র বন্দরের কোনো বিকল্প নেই। তা ছাড়া, আমদানি রপ্তানিতে আমাদের চার লেন রাস্তার ওপর ভরসা করলে হবে না। আমদানি রপ্তানিকে আরও নিরাপদ এবং কম খরচে পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের আইসিডিকে (ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো) আরও উন্নত এবং স্থানান্তর করতে হবে। ঢাকার আইসিডিকে দিয়ে এটা সম্ভব না। আরও বড় আইসিডি লাগবে। এজন্য যে ট্রেনে পণ্য পরিবহন নিরাপদ।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: শিল্প খাতের বিকাশে সরকারের কোনো নীতি বাধা হিসেবে কাজ করছে কি?

সালাম মুর্শেদী : ১৯৯৬ সালে যখন বর্তমান সরকার দায়িত্বে ছিল তখন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত টেক্সটাইল খাতে নগদ সহায়তা দিয়েছে। তা কমে এখন ৫ শতাংশে এসে একটি শক্তিশালী খাত হিসেবে দাঁড়িয়েছে এটি। এজন্য খাতটি বিশ্ববাজারে রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। এখন প্রায়োরিটি খাত হিসেবে আছে- আইটি, ওষুধ, মৎস্য, শাকসবজি, জুট, কৃষি ইত্যাদি। এসব খাতে রি-ফাইন্যান্সিং অথবা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা উচিত। তাহলে খাতগুলো সামনে এগিয়ে যাবে। একটি কারখানা করতে গেলে অবকাঠামো গড়ে তুলতেই সিংহভাগ টাকা চলে যায়। অবকাঠামো বলতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জায়গা, বিল্ডিং তৈরি করার কথা বলছি। এ জায়গাগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যাংক স্বল্প সুদে অর্থাৎ ২ থেকে ৫ শতাংশ ঋণসুবিধা দিচ্ছে। এ সুবিধাগুলো আমরা নিতে পারছি না। যেমন- শিল্পের মেশিনারি কেনার ক্ষেত্রে পলিসিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল। আমার সাপ্লাইয়ার বলছে, একটি মেশিন আমাকে তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য বাকি দেবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে না, এক বছরের বাকিতে আনতে হবে। আমি কারখানা করে এক বছরের মধ্যে মেশিনের টাকাটা শোধ করতে পারব না। যদি কম সুদে পাঁচ বছরে আনতে পারি, তাহলে আমার আয় দিয়েই তা শোধ করতে পারতাম। এ জায়গাটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসিতে পরিবর্তন আনতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি জিনিস বুঝতে হবে। সাপ্লাইয়ার মেশিন কিন্তু সরকারকে বাকি দিচ্ছে না। তারা মেশিন দেবে কোম্পানি এবং কোম্পানির ব্যালেন্স সিটকে। তাহলে সরকারের বাধা কোথায়? আমি মনে করি, এ জিনিসটা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিডা অবশ্যই নজরে আনবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের মানসিকতা এবং পলিসির পরিবর্তন করতে হবে। দেশের ভালো উদ্যোক্তাদের প্রতি সরকার এবং ব্যাংকগুলোর আস্থা বাড়াতে হবে।

 



এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা আমাদের। কিন্তু ব্র্যান্ডিং হচ্ছে না।

সালাম মুর্শেদী : আশার কথা হলো, গত কয়েক বছরে আমাদের পোশাকশিল্পে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিগত দিনে এমনভাবে প্রচারণা হয়েছে যে, আমাদের অধিকাংশ পোশাক কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গ্রিন বা পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা আমাদের। এ শিল্পে এক নীরব সবুজ বিল্পব ঘটেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব খুব একটা ব্র্যান্ডিং হয়নি। বাংলাদেশ এখন পরিবেশবান্ধব গ্রিন তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ৬৭টি গ্রিন বা সবুজবান্ধব কারখানা আছে আমাদের। এর মধ্যে সাতটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। এছাড়া আরও প্রায় ২৮০টি কারখানা ইউএসজিবিসিতে নিবন্ধিত হয়েছে এবং অনেক কারখানা পরিবেশবান্ধব হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব কারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তা খরচ সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ কমাচ্ছে। দেশে পোশাকশিল্পের সবুজ বিপস্নব থেকে স্পষ্ট হয় যে, পরিবর্তনে আমাদের উদ্যোক্তারা অনেক বেশি খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা রাখে। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মমতাময় পরিচর্যার কারণে গ্রিন কারখানা স্থাপনে বড় দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে সারা বিশ্বে। তার সরকারকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের গ্রিন কারখানার করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে ১০ শতাংশ করার জন্য। একটি রপ্তানিমুখী শিল্পে ভাবমূর্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই জায়গায় সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে একটি স্লোগান `মেইড ইন বাংলাদেশ উইথ প্রাউড` বা `বাংলাদেশের পোশাক গর্বের`।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: পোশাকশিল্পের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কিছু বলুন?

সালাম মুর্শেদী : বর্তমানে দেশের কারখানাগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ, নারী শ্রমিকদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, তাদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার এবং অবৈতনিক স্কুল পরিচালনা কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। এ ছাড়া খাবার ভাতাসহ কিছু কারখানা বিনামূল্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে একটি `শ্রমিক কল্যাণ তহবিল` গঠন করেছে। যার ফলে তারা যেমন আপতকালীন সময়ে সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে কারখানার দুর্ঘটনার কারণে পাওনা পরিশোধে মালিক অসমর্থ হলে এই তহবিল থেকে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: সরকারের রাজস্ব নীতি নিয়ে কিছু বলুন?

সালাম মুর্শেদী : আমি বলব, টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) ওপেন করা এবং রাজস্ব দেয়ার জন্য উৎসাহিত করতে সহজ নীতি দরকার। অনেকে মনে করেন, রাজস্ব দিলে ভবিষ্যতে সে বিপদে পড়বে। করদাতাদের এ ভয় এনবিআরকে দূর করতে হবে। ঘরে বা অফিসে বসে রাজস্ব দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে আমার বিশ্বাস করদাতারা উৎসাহিত হবেন। আমাদের একটি ভুল ধারণা আছে যে, আমি আয় করব, সরকারকে দেব কেন? রাজস্ব সরকারকেই দিতে হবে। রাজস্ব না দিলে সরকার  উন্নয়নমূলক কাজ করবে কীভাবে? তবে রাজস্ব নীতিমালা যেন আরও সহজ হয়, রাজস্ব দিয়ে বিপদে পড়বে এ ধরনের মনোভাব যেন করদাতাদের মধ্যে না আসে এ বিষয়টি  এনবিআরকে নিশ্চিত করতে হবে।

এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকম: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সালাম মুর্শেদী : এশিয়ান মেইল ২৪ ডটকমকেও ধন্যবাদ।