ঢাকা: ২০১৯-০২-২১ ২১:৩২

Khan Brothers Group

গ্যাটকো দুর্নীতির অভিযোগ গঠনে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:০৭ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:৪২ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠের তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশারফ হোসেন কাজল অভিযোগ গঠন শুনানি করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াসহ মামলার সব আসামি গ্যাটককোকে অবৈভাবে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য অর্থ আত্মসাত করেছেন। এতে রাষ্ট্রের ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এটির প্রমাণে আমাদের কাছে যথেষ্ট আলামত ও সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। আমরা আশা করছি, আসামিদের শাস্তির আওতায় আনতে পারব। তাই খালেদাসহ সব আমির বিরুদ্ধে ২৯৪৭ সালের দুদকের ৫ এর ২ ধারা ও দণ্ডবিধি ৪০৯/১০৯ ধারায় তাদের অভিযোগ গঠনের আবেদন করছি।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ গঠন শুনানি শেষে আসামিপক্ষের অভিযোগ গঠনের জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।

এদিন বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে আলিয়া মাদরাসা মাঠ আদালতে হাজির করা হয়েছে।শুনানি শেষে বেলা ২টার দিকে তাকে আবারও কারাগারে নেয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হাজিরা দেয়ার জন্য সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আলিয়া মাদরাসা মাঠ আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র না পাওয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নথিপত্র চেয়ে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর আদালত অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।

মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ৬ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূইয়া, এম কে আনোয়ার, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপি দলীয় সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (অব.) স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, গ্লোবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের (গ্যাটকো) পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, গ্যাটকোর পরিচালক সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম শাহাদত হোসেন, বন্দরের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এ এম সানোয়ার হোসেন ও বন্দরের সাবেক সদস্য লুৎফুল কবীর।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুদকের দায়ের করা দুই মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আপিলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড বেড়ে ১০ বছর এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত ঢাকা সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া।

এ/কে