ঢাকা: ২০১৯-০২-১৬ ৯:৩৭

Khan Brothers Group

ঘুরে আসুন কলকাতায়

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:৫৬ পিএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট: কলকাতা মানেই টানা রিকশা, ট্রামের শব্দ কিংবা হলদে ট্যাক্সি। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই কলকাতা যেন শুধু একটি শহরই নয়, একটি জীবনধারা, যা প্রায় জীবন্তই বলা চলে!

কলকাতার ইতিহাস: শুরু হয় সেই ১৬৯০ সালে। যখন তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট জব চারনক অনেক চিন্তা-ভাবনার পর এলাকাটি তাদের ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু বানানোর কথা ভাবেন। এ লক্ষ্যে সুতানুটি, গোবিন্দপুর এবং কালিকাটা নামে তিনটি গ্রাম তারা কিনে নেন স্থানীয় জমিদারদের কাছ থেকে। মুঘলরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ব্যবসা করার স্বাধীনতা দেন বাৎসরিক ৩ হাজার রুপির বিনিময়ে। এরপর ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজ উদ দৌলা কলকাতা দখল করে নেন। কিন্তু বেশিদিন তিনি তা ধরে রাখতে পারেননি। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ কলকাতার দখল নিয়ে নেন। ১৭৭২ সালে কলকাতাকে ভারতবর্ষের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিং সব গুরুত্বপূর্ণ অফিস মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। তখন থেকেই সমগ্র ভারতবর্ষে কলকাতার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। পরবর্তী প্রায় ১৩৯ বছর ভারতবর্ষের রাজধানী হিসেবে কলকাতা থেকে যায়।

বর্তমান ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ- এই তিনের রাজধানী ছিল কলকাতা। তাই এর গুরুত্ব সহজেই অনুমান করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতা ও গুরুত্বের শীর্ষে অবস্থান করেছে এই শহর। হয়েছে অনেক ঘটনার সাক্ষী। ‘আনন্দনগরী’ নামে পরিচিত কলকাতা মাদার তেরেসা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, সুভাষ চন্দ্র বোস এবং আরও অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। কালজয়ী এই শহর ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বাংলা সংস্কৃতির বিশিষ্ট প্রতিনিধি হিসেবে।

এই শহর যদি ভ্রমণ না করা হয়, বাঙালি হিসেবে আপনার জীবন কিছুটা না, অনেকটাই অপূর্ণ থেকে যাবে।

কখন বেড়াতে যাবেন: কলকাতার আবহাওয়া বেশ গরমই বলা চলে। এখানে প্রধানত তিনটি ঋতু বিরাজ করে– গ্রীষ্ম, বর্ষা এবং শীত। গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এপ্রিল এবং শেষ হয় জুন মাসে। তাপমাত্রা প্রায় ৩৫-৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি চলে যায়। তাই এ সময়ে ভ্রমণ করাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। কলকাতা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলো বর্ষাকাল (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং শীতকাল (অক্টোবর-ফেব্রুয়ারি)। বর্ষাকালে তাপমাত্রা থাকে ২০-২৫ ডিগ্রি যা খুবই আরামদায়ক। শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় ৯-১১ ডিগ্রিতে। তার মানে একেবারে হাড়কাঁপানো শীতও পড়বে না। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেলে বেশ আরামদায়ক পরিবেশেই কলকাতা ভ্রমণ করতে পারবেন।

কলকাতা ভ্রমণ: দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে গেলে সবার আগে যে বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার, সেটা হচ্ছে বৈধ পাসপোর্ট। ঝামেলা এড়াতে আগে থেকেই পাসপোর্ট করে রাখা ভালো। পাসপোর্টে কমপক্ষে ৩-৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে এবং ভিসার জন্য পাসপোর্টের কমপক্ষে দুই পেজ খালি থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ভিসা পেতে পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের ফটোকপি, ই-টোকেন এবং ই-টোকেনের ফটোকপি, অফিস প্যাডে কভার লেটার এবং ভিজিটিং কার্ড, সদ্য তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের এককপি ছবি, ডলার এন্ড্রোসমেন্ট অথবা ব্যাংক স্টেটম্যান্ট, টেলিফোন বিল অথবা ইলেক্ট্রিক বিলের ফটোকপি, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ব্যাংকের কোনো কার্ড থাকলে ফটোকপি দিতে পারেন, ভিসা ফি হিসেবে খরচ হবে মাত্র ৬শ’ টাকা।

কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। তাই বিভিন্ন ভাবেই যাওয়া যায়। যদি একটু আরামে ভ্রমণ করতে চান তাহলে বিমানে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে কলকাতা রুটটি অনেক ব্যস্ত। প্রতিদিন প্রচুর লোক যাওয়া-আসা করে। তাই ফ্লাইটের সংখ্যাও বেশি। ভালো হয়, যদি আপনি যাত্রার বেশ আগেই টিকিট বুকিং করে রাখেন। তাতে খরচ কিছু কমও হতে পারে।

ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে পারবেন বাংলাদেশ বিমান, স্পাইস জেট, এয়ার ইন্ডিয়া অথবা জেট এয়ারওয়েজে। এছাড়া দেশি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে আছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা ইত্যাদি। এই বিমানগুলোতে কলকাতা গেলে খরচ অপেক্ষাকৃত কম হবে। বাংলাদেশি টাকায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। এছাড়া আরও বিমান সংস্থা যেমন- থাই এয়ার, শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ইত্যাদিতেও কলকাতা যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে একটু বেশি টাকা গুনতে হবে।

টিকিট আগাম কেটে রাখলে বেশি সুবিধা পাবেন। তবে এজন্য আপনাকে বিমান অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সিতে দৌড়ানোর প্রয়োজন হবে না। অনলাইনেই টিকিট কাটতে পারবেন।

কোথায় কী দেখবেন: প্রায় ১,৮৮৭ বর্গকিলোমিটারের কলকাতা শহরে নতুন পুরনো মিলিয়ে অনেক কিছুই আছে দেখার মতো। এর মধ্যে সল্ট লেক স্টেডিয়াম, ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল, মার্বেল প্যালেস, ইডেন গার্ডেনস, এসপ্ল্যানেড, পার্ক স্ট্রিট আরও কত কী!

কোথায় থাকবেন: কলকাতা গেলে অবশ্যই কয়েকদিন থাকার চিন্তা করেই যাওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে বিশ্রামের জন্য উত্তম ব্যবস্থা থাকাও আবশ্যক। যদি আত্মীয়-স্বজন থাকে সেক্ষেত্রে আলাদা। সেরকম কিছু না থাকলে হোটেল অথবা এ জাতীয় কিছু খুঁজে বের করতে হবে। সুবিধার জন্য কিছু নামকরা হোটেলের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে পারেন।

ও/র