ঢাকা: ২০১৯-০৩-২১ ২১:৩১

Khan Brothers Group

চা বাগানে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইউনিসেফ

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:৩৪ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:১৩ পিএম, ১ অক্টোবর ২০১৭ রবিবার

শফিকুল ইসলাম, সিলেট থেকে ফিরে : সিলেটের সুবিধাবঞ্চিত চা বাগানের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার আলো। পশ্চাৎপদ এ জনগোষ্ঠীর আগামী প্রজন্মকে আলোকিত ও উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে নানা কার্যক্রম চালাচ্ছে ইউনিসেফ। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিলেটে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ১০৪টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। চা বাগানগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্কুল না থাকায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল শিশুরা।

সিলেটের চা বাগানে প্রাক-প্রাথমিকের এসব কেন্দ্রেরই একটি হচ্ছে দলদলী টি গার্ডেনের ব্রাক প্রি-প্রাইমারি স্কুল। এ স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জন। এসব শিশুকে প্রাথমিকে ভর্তির উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে চলছে এক ধরনের প্রস্তুতিযুদ্ধ। আর যুদ্ধের একমাত্র যোদ্ধা হচ্ছেন শিক্ষক হচ্ছেন রুমি আক্তার।



ইউনিসেফের অর্থায়নে বাস্তবায়নকৃত শিশু ও নারী উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) পরিচালিত শিশু ও নারী বিষয়ক কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে  গত বুধবার দলদলী টি গার্ডেন প্রি-প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে চোখে পড়ল এমন দৃশ্য।

সিলেট শহরের পাশেই দলদলী টি গার্ডেন। টিনের ছাউনির ওপর মাটি দিয়ে তৈরি একটি ঘর। কার্পেট বিছানো পরিপাটি এ ঘরেই চলছে শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা । টি গার্ডেনটির পাহাড়ের চুড়ায় উঠে স্কুল ঘরটিতে ঢুকতেই ছোট ছোট শিশুদের চোখে কৌতূহলী দৃষ্টি।  তাদের চোখে-মুখে ছিল দুষ্টুমির ছায়া। লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে কি হতে চাও, জানতে চাইলে ছোট্ট শিশু সৌরভ দাসের তাৎক্ষনিক উত্তর পুলিশ হবো। সৌরভ বড় হয়ে পুলিশ হবে।পাশ থেকে শোনার পর সুমনা নামের এক মেয়ে শিশু বলে ওঠে আমি শিক্ষক হবো। অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই পাঠ নিচ্ছিল কেন্দ্রের শিক্ষিকা রুমি আক্তারের কাছ  থেকে।

শিক্ষিকা রুমা আক্তার জানান, চা বাগানের এ স্কুলে মূলত শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে পরিচয় করে দেয়া হয়। চেনানো হয় ফল-মূল, পশুপাখি, জীবজন্তু, এবং বাংলা ভাষা। শেখানো হয় জাতীয় সঙ্গীত এবং শরীরচর্চা। এ ছাড়া কেন্দ্রে শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলার সাথে পরিচয় করে দেয়া হয়।

ইউনিসেফের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা ব্রাক সিলেটে প্রি-প্রাইমারি স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থার সিলেট শাখার সিনিয়র ম্যানেজার (এডুকেশন) আকতার জাহান বলেন,প্রতিবন্ধী স্কুলসহ সিলেট আরবান এলাকায় ১০৪টি প্রি-প্রাইমারি স্কুল কার্যক্রম চলছে। এসব স্কুলে গড়ে ২৮ জন করে শিক্ষার্থী আছে। এসব স্কুলে ৫৫ শতাংশ মেয়ে শিশৃ এবং ৪৫ শতাংশ ছেলে শিশু ভর্তি করা হয়।স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুদের বয়স সাড়ে তিন বছর থেকে ছয় বছরের মধ্যে। প্রাক-প্রাইমারি শেষ করার পর এসব শিশু আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রেই শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুত করা এবং বিদ্যালয়মুখী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। যার ফলে এখন ঝরেপড়া শিশুর সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে।