ঢাকা: ২০১৯-০২-২১ ০:০৯

Khan Brothers Group

জমি নিয়ে বিরোধে কবরের জায়গাও জুটলো না বাবা-মার

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:১৯ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:১৬ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গোয়ালন্দ প্রতিনিধি: বংশধরদের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রায় ৫০ বছর আগে দাফন করা বাবা-মাকে শেষ আশ্রয়টিও হারাতে হলো! রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর এলাকা থেকে বাবা-মায়ের পুরোনো দুটি কবর স্থানান্তর করতে হলো। সোমবার এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নিলু শেখের মহল্লায় সোমবার পাশাপাশি দু’টি পুরনো কবর নতুন করে খোড়া হয়। সেখানে কথা হয় স্থানীয় খোরশেদ আলী মৃধার (৬৫) সঙ্গে। তিনি জানান, ‘১৯৭২ সালের দিকে মারা যান মোবারক মৃধার ছেলে জমশের আলী মৃধা। এর বছর খানেক পর মারা যান তার স্ত্রী শরীফুন বেগম।

 

নিজ আঙ্গিনায় তাদের দাফন করা হয়। পৈত্রিক বাড়িটি বংশানুক্রমে কয়েক দফা ভাগাভাগি হয়। ভাগাভাগির এক পর্যায়ে কবর দুটি মৃত জমশের মৃধার ভাতিজা খালেক মৃধার অংশে পড়ে।’

 

শহরের প্রাণকেন্দ্রে বাড়িটি হওয়ায় এরমধ্যে জমির মূল্য বেড়েছে কয়েকশো গুণ। এতেই বাঁধে বিপত্তি। কবরের জায়গা বাবদ জমশের মৃধার ছেলেরা আধা শতাংশ জমি ছেড়ে দিলেও খালেক মৃধার দাবি আরো বেশি জমি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে শুরু হয় বিরোধ। শেষ পর্যন্ত জমশের মৃধার ছেলে কমেদ আলী মৃধা বাবা-মায়ের কবর সরিয়ে নিজের জায়গায় আনার সিদ্ধান্ত নেন।’

 

এদিকে কবরস্থানের জমির মালিক আ. খালেক মৃধার ছেলে জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘কবর সরিয়ে নিতে আমরা কখনো বলিনি। তাদের ছেড়ে দেওয়া জায়গায় পাকা টয়লেট ভেঙে দেওয়ার কথা বলায় তারা কবর সরিয়ে নিচ্ছে।’

 

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আব্দুল রশিদ ফকীর জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে আপোস করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। অবশেষে গোয়ালন্দ ঘাট থানা জামে মসজিদের খতিব আবু বক্কর হুজুরের সাথে পরামর্শ করে শরীয়া মোতাবেক কবর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

 

এস/এইচ