ঢাকা: ২০১৮-১১-১৪ ২১:০৯

Khan Brothers Group

জীবনানন্দের ধানসিড়ি

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:৪১ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার

ছবি: সংগৃহিত

ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর ছলচ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার! তাকিয়ে দেখলাম পাণ্ডুর চাঁদ বৈতরণীর থেকে তার অর্ধেক ছায়া গুটিয়ে নিয়েছে যেন, কীর্তিনাশার দিকে। ধানসিড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম- পউশের রাতে কোনদিন আর জাগবো না জেনে। - জীবনানন্দের কবিতায় এই একটি নদী, তাবৎ পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে একদম আপন করিয়ে দিয়েছে। এই লাইন তো সবার মুখস্থ ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায় ...।

বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত জীবনানন্দের ধানসিড়ি। নদীটির দৈর্ঘ্য ১৩০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪৯০ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা ‘পাউবো’ কর্তৃক কীর্তনখোলা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ২৬। এই নদীর তীরে ঝালকাঠি শহর অবস্থিত।

কথিত আছে, ধানসিঁড়ি নদী পারাপারে এক ডোঙ্গা ধান সিদ্ধ হওয়ার সমপরিমাণ সময় লাগতো বলে এর নাম ছিল ধানসিদ্ধ নদী। আবার কেউ কেউ বলেন, রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি এলাকায় সে সময় শত শত ডোঙ্গায় ধান সিদ্ধ করা হতো। বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে ধান সিদ্ধ করার জন্য নৌকায় করে ধান নিয়ে আসতো। এ কারণেই এ নদীর নাম ধানসিদ্ধ নদী। কোথাও এমনও উল্লেখ আছে─ নদীর বিশাল চরে ব্যাপক ধানের চাষ হতো। কৃষকরা সে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাজার হাজার মণ ধান আঁটির ওপর আঁটি বেঁধে সিঁড়ির মতো করে সাজিয়ে রাখত। আর সেখান থেকেই নদীর নাম ধানসিঁড়ি।

এক সময় ধানসিড়ি অনেক বড় নদী ছিল। বড় বড় জাহাজ চলত এর বুকে। এখন ছোট ট্রলারও চলতে পারে না। সুগন্ধা, বিষখালী ও গাবখান নদের মোহনায় বিশাল চর জেগে ওঠায় এ নদীর মুখের দক্ষিণ পাশের চরকাঠি এলাকা ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর মুখ ছোট ও গভীরতা কমে গেছে। ফলে শেষ প্রান্তে গিয়ে নদীটি প্রায় মরে গেছে। এখনও দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আসেন এ নদী দেখতে। কিন্তু অনেকেই এসে হতাশ হন। কারণ, ধানসিঁড়ি এখন যৌবন হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট

ও/র