ঢাকা: ২০১৮-১০-২৪ ৮:২৬

Khan Brothers Group

জেরুজালেম বিতর্ক যুগে যুগে

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:২৩ পিএম, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ০৪:৪৭ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেরুজালেম বিশ্বের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে বিতর্কিত শহরগুলির অন্যতম৷ ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিষ্টান, তিনটি ধর্মের মানুষের কাছেই জেরুজালেম একটি পবিত্র শহর৷ এ কারণে জেরুজালেম নিয়ে বিরোধ ও বিতর্ক লেগেই আছে৷

ওল্ড টেস্টামেন্টের বিবরণ অনুযায়ী, জুডাহ ও ইসরায়েলের রাজা ডেভিড যীশুখ্রিষ্টের জন্মের প্রায় এক হাজার বছর আগে জেবুসাইটদের কাছ থেকে জেরুজালেম জয় করেন৷ ডেভিড জেরুজালেমকে তার রাজধানী করেন। সেসময় জেরুজালেম তার রাজ্যের ধর্মীয় কেন্দ্র হয়ে দাড়ায়৷ বাইবেলে কথিত আছে যে, ডেভিডের পুত্র রাজা সলোমন জেরুজালেমে ইসরায়েলের দেবতা ইয়াওয়েহ’র প্রথম মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন ও জেরুজালেম ইহুদি ধর্মের প্রাণকেন্দ্র হয়ে দাড়ায়৷



নব্য ব্যাবিলোনিয়ান রাজা দ্বিতীয় নেবুচাডনেজার (বাম থেকে তৃতীয়) খ্রিষ্টপূর্ব ৫৯৭ ও ৫৮৬ সালে জেরুজালেম জয় করেন বলে বাইবেলে উল্লেখ আছে৷ তিনি রাজা জেহোইয়াকিম (ডান থেকে পঞ্চম) ও অন্যান্য সম্ভ্রান্ত ইহুদিদের বন্দি করে ব্যাবিলনে পাঠান ও ইয়াওয়েহ’র মন্দিরটি ধ্বংস করেন৷ পারস্যের রাজা সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলন দখল করার পর নির্বাসিত ইহুদিদের জেরুজালেমে ফেরার ও মন্দিরটি পুনরায় গড়ে তোলার অনুমতি দেন৷

খ্রিষ্টজন্মের ৬৩ বছর পরে জেরুজালেম রোম শাসনের অধীনে আসে। কিন্তু জনগণের মধ্যে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকায় তার তিন বছর পরেই প্রথম ইহুদি-রোম যুদ্ধ শুরু হয়৷ চার বছর যুদ্ধের পর রোমানরা জয়ী হয় ও ইহুদিদের মন্দিরটি পুনরায় ধ্বংস করা হয়৷ রোমক আর বাইজান্টাইনরা মিলে প্রায় ৬০০ বছর ধরে জেরুজালেম শাসন করে৷

বৃহত্তর সিরিয়ায় ইসলামের জয়ের পর মুসলিম সেনাবাহিনী জেরুজালেমে পৌঁছায়৷ খলিফা উমরের আদেশে ৬৩৭ সালে দীর্ঘ অবরোধের পর জেরুজালেমের পতন ঘটে৷ মুসলিম শাসন চলাকালীন বিভিন্ন গোষ্ঠীর শাসকরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত চালান৷ জেরুজালেম একাধিকবার অবরুদ্ধ ও বিজিত হয়৷

পোপ দ্বিতীয় আর্বান ক্রুসেডের ডাক দেন৷ ১০৭০ সাল থেকে ২০০ বছরের মধ্যে মোট পাঁচটি ক্রুসেড জেরুজালেম জয়ের জন্য যাত্রা করে৷ কিন্তু ১২৪৪ সালে ক্রুসেডাররা শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারায় ও জেরুজালেম পুনরায় মুসলিম শাসনে আসে৷

অটোমানরা মিশর ও আরব জয় করার পর ১৫৩৫ সালে জেরুজালেম একটি অটোমান জেলার প্রশাসনিক কার্যালয়ে পরিণত হয়৷ অটোমান শাসনের প্রথম কয়েক দশকে শহরটির প্রভূত উন্নতি ঘটে৷ ১৯১৭ সালে অটোমান সৈন্যদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের জয়ের পর ফিলিস্তিন ব্রিটিশ শাসনে আসে ও জেরুজালেম বিনাযুদ্ধে ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেন তার ফিলিস্তিনি মসনদ ছেড়ে দেয়৷ অপরদিকে জাতিসংঘ হলোকস্ট থেকে যেসব ইহুদি বেঁচেছেন, তাদের জন্য একটি স্বদেশ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দেশ বিভাগের সিদ্ধান্ত নেয়৷ অতঃপর কিছু আরব দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে ও অংশত জেরুজালেম দখল করে৷ ১৯৬৭ সাল অবধি জেরুজালেমের পশ্চিমাংশ ইসরায়েল ও পুর্বের অংশ জর্ডানের দখলে ছিল৷

১৯৬৭ সালে ইসরায়েল ছয় দিনের এক যুদ্ধে মিশর, জর্ডান ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়৷ সাইনেয়াই, গাজা স্ট্রিপ, পশ্চিম তীর, গোলান হাইটস ও পূর্ব জেরুজালেমের দখল করে নেয় ইসরায়েল৷ ইসরায়েলের প্যারাট্রুপার সৈন্যরা ১৯৪৯ সাল যাবৎ প্রথমবারের মতো ইহুদিদের জেরুজালেমের ‘ওয়েলিং ওয়াল’-এ দাঁড়ায়৷ পূর্ব জেরুজালেমকে সরকারিভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ না করা হলেও, সামগ্রিক প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷



জেরুজালেমে মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলি মুসলিমদের জন্য খোলা৷ টেম্পল মাউন্ট একটি স্বশাসিত মুসলিম প্রশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷ মুসলিমরা ডোম অফ দ্য রক ও তার সংলগ্ন আল-আকসা মসজিদটি দর্শন করতে পারেন ও সেখানে নামাজ পড়তে পারেন৷

আজ অবধি জেরুজালেম পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ মর্যাদা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তির পথে অন্তরায় হয়ে রয়েছে৷ ১৯৮০ সালে ইসরায়েল গোটা জেরুজালেমকে তার ‘চিরন্তন ও অবিভাজনযোগ্য রাজধানী’ বলে ঘোষণা করে৷ কিন্তু বিশ্বের কোন দেশই তাদের এই দাবির স্বীকৃতি

সর্বশেষ বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন৷ তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী৷ এ নিয়ে, চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনে। বিক্ষোভ হচ্ছে সারা মুসলিম জাহানে। একমাত্র ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের আর কোন দেশ, সংস্থা বা সংগঠনই ট্রাম্পের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানায়নি। (ডয়েচ ভেলে অবলম্বনে)

এইচআর/একে