ঢাকা: ২০১৯-০২-১৬ ৮:৫৬

Khan Brothers Group

ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:৩৩ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নিচ্ছে না বিষয়টা কিভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে না, এখনো তারা ঘোষণা দেয়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময়তো এখনো রয়েছে। এরপর এ কথাটা বলা যাবে। আপাতত দাবি দাওয়ার প্রশ্নে কিছু কিছু স্টান্ড তো দলগতভাবে থাকতেই পারে। ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিতে টানাপোড়েন আছে। তবে ছাত্রদল তারেক রহমান যা বলবে সেটিই মেনে নেবে। ছাত্রদল তারেক রহমান অনুগত শুরু থেকেই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কথাই তারা শুনবে বলে আমি মনে করি।

বিএনপির অভিযোগ সরকার ডাকসু নির্বাচন একতরফা করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে একতরফা বা নির্বাচনকে ইমপ্যাক্টড করা বা ইন্টারফেয়ারেন্সের সুযোগটা কোথায়? এখানে কি কেউ কেন্দ্র দখল করবে? এখানে কি কারচুপির সুযোগ আছে? কিভাবে হবে? ডাকসুর নির্বাচনতো প্রকাশ্যেই ভোটাভুটি হবে।

‘ডাকসুতে তারা যদি পুরনো নালিশের অভিযোগটা নিয়ে আসে তাহলে এটা তাদের স্বভাব জাত বিষয়। তারা এটা আনবেই। হেরে গেলে তারা কারচুপির অভিযোগ আনবে এটাই স্বাভাবিক।’

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কে আসল, কে বয়কট করল তা নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই। অনেকেই দলীয় প্রতীকে না করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারে। অনেক জায়গায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবে। তারা (বিএনপি) আসলে ভালো, না আসলেও প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর অভাব নেই।

জামায়াত বিএনপি ছাড়ছে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমার কাছে মনে হয় না। বিএনপি জামায়াতকে, অথবা জামায়াত বিএনপিকে ছাড়বে, এটা হলেও কৌশলগত হতে পারে। এমনটি আমার হিসেবে আসে না। তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা যেই চেতনা ধারণ করে সেক্ষেত্রে তারা অনেক কাছাকাছি। দুটিই সাম্প্রদায়িক দল। দুটির চেতনা একই। কোনটা লিবারেল, কোনটা এক্সটিম।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়কে এখনো শৃঙ্খলা আসেনি। এটা আমি স্বীকার করছি। সড়কে অতটা শৃঙ্খলা আসেনি। যার জন্য দুর্ঘটনা, যানজট এই বিষয়গুলো এখানো রয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় আমরা ভালো করার চেষ্টা করছি। এখানে সফলতা আছে এমন দাবি আমি আগেও করিনি এখনো করছি না। যেটা বাস্তবে সত্য নয় সে দাবি আমি কেনো করবো? এখানে ব্যর্থতা অবশ্যই আছে।

খুব তাড়াতাড়ি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা খুব তাড়াতাড়ি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা দিচ্ছি। এ বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে কমিটি সাজাবো, নতুন ভাবে আবার প্রোগ্রাম নেয়ার চিন্তাভাবনা করছি। বিআরটিএতেও আমরা প্রোগ্রাম ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। সড়কের বিশেষজ্ঞদেরও সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় ডাকবো।

সভায় আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন সরকারের এই মন্ত্রী। বলেন, সৌদি আরবের সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশটির সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের তো স্টাট্রেজিক অবস্থান থাকবেই। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারেন্টস, ক্রস কারেন্টস আছে। এখানে সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে তাদের একটা প্রভাব তো মুসলিম বিশ্বে আছে। এখানে এলায়েন্সের বিষয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। কোথায় গেলে আমার সুবিধা বেশি, কার সাথে জোট বাধলে আমি আন্তর্জাতিকভাবে ডিপ্লোমেটিক দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবো সেটাই আমরা বেছে নেব।

-জেডসি