ঢাকা: ২০১৯-০৩-২২ ২০:১৫

Khan Brothers Group

ডাস্টবিনে নবজাতকের মরদেহ: জরুরি বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:৪০ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে ৩৩ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জরুরি বৈঠকে বসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলাবার সকাল ৯টার দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয় ।

বৈঠকে তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. খুরশিদ জাহান এবং ওই বিভাগের ওয়ার্ড ইনচার্জ নার্স জোসনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য স্বাস্থ্য অধিফতরে আবেদন পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মাকসুমুল হক, উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মাকসুমুল হক জানান, ৩৩ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনে আলোচনা চলছে। কমিটি কত সদস্যের হবে , কে প্রধান হবেন এবং কত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবেন তা নির্ধারণে আলোচনা চলছে। এছাড়াও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. খুরশিদ জাহান এবং ওই বিভাগের ওয়ার্ড ইনচার্জ নার্স জোসনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি প্রস্তত করে দ্রুত স্বাস্থ্য অধিফতরে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এ ঘটনা জানতে পেরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক হাসপাতাল পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেনকে ফোনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে ৩৩ নবজাতকের মরদেহ ও মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাওয়া যায়। যার অধিকাংশই ছিল বোতলজাত। রাত পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলোর সুরতহাল শুরু করে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালে জন্ম নেয়া অপরিণত শিশুর মরদেহ কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য মেডিসিনের মাধ্যমে বোতলে ভরে রাখা হয়। ১৫/২০ বছর পূর্বে অপরিণত এসব শিশুর মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ওই বোতলগুলো গাইনি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত ছিল। তাছাড়া বোতলে থাকা মেডিসিনের মেয়াদও শেষপর্যায়ে থাকায় তা মাটিচাপা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ওয়ার্ড-বয়রা কোনো কিছু না বলে হাসপাতালের পেছনে ডাস্টবিনে স্তূপ করে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে টোকাইরা সেখান থেকে অপরিণত শিশুর মরদেহ ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বের করে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের লোকজন হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ময়লা অপসারণ করতে গেলে জরুরি বিভাগ সংলগ্ন পানির ট্যাঙ্কের নিচ থেকে অপরিণত শিশু এবং মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে শত শত মানুষ ভিড় করে।

কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ/কে