ঢাকা: ২০১৯-০৩-২১ ২১:৫৪

Khan Brothers Group

তার সম্পত্তির ধারে কাছেও যেতে পারবেন না বিল গেটস

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:২৫ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ১২:৩১ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, নিশ্চয়ই বিল গেটস বা জেফ বেজোসের নাম উঠে আসবে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল! বর্তমানে গেটস ও বেজোসরা ধনীর তালিকার শীর্ষে থাকলেও তারা কিন্তু সর্বকালের সেরা ধনী নন। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ছিলেন এমন একজন যার সম্পত্তির পরিমাণের ধারে কাছেও যেতে পারবেন না বিল গেটসরা। এমনকি ইতিহাসের অন্য কোনও রাজা বা বাদশাহও ছুঁতে পারেননি না তাকে।

সর্বকালের সেরা এই ধনীর সম্পত্তির পরিমাণ ছিলো ৪০০ বিলিয়ন ডলার। তিনি হলেন মানসা মুসা। আফ্রিকার দেশ মালির রাজা ছিলেন তিনি। ১৩০৭ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন মুসা কেইটা-১। রাজা হওয়ার পর তার নাম হয় মানসা মুসা।

মানসা শব্দের অর্থ সুলতান, বিজেতা, বা সম্র্রাট। মানসা ছিলেন মালি সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কেইতা`র ভাগ্নে। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইভানস্টোনে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে তার জীবন নিয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এত বেশি ছিল যে, ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তির পক্ষে এত ধন সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মালির মতো এত গরিব দেশের রাজা কীভাবে সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তি হলেন?

ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, সে সময়কার পরিস্থিতি ছিলো অন্যরকম। সে সময় আফ্রিকাও ফুলেফেঁপে উঠেছে। মালি তখন মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। প্রকৃত অর্থেই সোনা ফলত মালির মাটিতে। আর সেই সোনাই তাকে সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

প্রচুর সোনার খনি রয়েছে মালিতে। মানসা মুসাই প্রথম এই খনির সন্ধান পান। ক্ষমতায় আসার পর নিজের সামাজ্যের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন মুসা। সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজেরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন।

১৩২৪ সালে মুসা হজ পালনের জন্য মক্কা যাত্রা করেন। এই হজযাত্রার পরই গোটা বিশ্বে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। শোনা যায়, তার হজ কাফেলার রসদপূর্ণ থলে বহন করার জন্য ৬০,০০০ লোক ছিল। আরো ছিল ৫০০ গোলাম যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দণ্ড বহন করছিল। স্বর্ণ পরিবহনের জন্য নেয়া হয়েছিলো ৮০ থেকে ১০০টি উট। সেগুলোর প্রতিটির পিঠে প্রায় ১৪০ কেজি করে সোনারবস্তা রাখা হয়েছিলো। তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশত কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন।

ইতিহাসবিদদের দাবি, মিশরের কায়রোতে তিনি এত সোনা দান করেছিলেন যে দেশটিতে তখন ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগেছিল।

এই জাকজমকপূর্ণ হজযাত্রার পর ইউরোপীয় মানচিত্র-অঙ্কনকারীরা তাদের মানচিত্রগুলোতে মানসা মূসার ছবি আঁকতে শুরু করে। ১৩৩৭ সালে মানসা মুসা মারা যান। এরপর সিংহাসনে বসেন তার ছেলে মেঘান।

মালি সাম্রাজ্যের পতনের পর মানসা মূসার খ্যাতিও কমতে থাকে। এরপর থেকে তাকে আর কখনোই মানচিত্রগুলোতে সম্মানিত রাজা হিসেবে আঁকা হয়নি। বরং অসভ্যভাবে আঁকা হতো। অনেক সময় রাজমুকুট পরিহিত একজন জংলী হিসাবেও আঁকা হয়েছে মুসাকে।

সূত্র: আনন্দবাজার


ও/র