ঢাকা: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ৯:৫২

নাসিরনগরের প্রিয়মুখ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:১৩ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৪:২৫ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ফকরুল হোসেনের ঘর আলো করে জন্ম নেন এক পুত্র সন্তান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের সময় জন্ম নেয়া সেই শিশুটির নাম রেখেছিলেন সংগ্রাম।

যার নাম রেখেছিলেন স্বয়ং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, সে কি আর অন্যদের মতো হবে? হবার কথাও নয়। বাস্তব জীবনে হয়েছেনও তাই। কৈশরকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের পতাকাতলে রাজপথে নেমেছেন। সত্তুর ও আশির দশকে দেশের বুকে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা সামরিক শাষনের বিরুদ্ধে বাবা মায়ের অনুপ্রেরণায় নেমে এসছিলেন রাজপথে। সব সময় ছিলেন মিছিলের সামনের সারিতে। যার কথা বলছি, তার পুরো নাম বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম।

এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর শূণ্য আসনে উপ-নির্বাচন আগামী ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এ দৌড়ে এগিয়ে ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবসের দিনে মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মনোনয়নপত্র বাছাই, ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ।

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন নাসিরনগর। এ আসনে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ১১ জন। তারমধ্যে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯শ ৯৭ জন। পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৬ হাজার ৮ শ ৮৭ জন, নারী ভোটার ১ লক্ষ ১ হাজার ১ শ ১০ জন। সংখ্যালঘু ভোটের সংখ্যা প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বিখ্যাত গুনিয়াউক বড় বাড়িতে তার জন্ম। বাবা- মা দু’জনেই ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাবা ফকরুল হোসেন একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধা আবার ছিলেন সাবেক পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় রেডক্রস সোসাইটির সেক্রেটারি। যুদ্ধের সময় শরণার্থী শিবিরগুলোর ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ছিলো অবিস্মরণীয়। এ সময় নিজের বিপদের কথা না ভেবে দেশের প্রয়োজনে ছুটে বেড়িয়েছেন অনেক দুর্গম এলাকায়।

ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের মামাদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ আর অন্যজন সাবেকমন্ত্রী রাশেদ মোশাররফ যাদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা ছিলো তার রাজনৈতিক পথচলার পাথেয়।

সংগ্রামের ছোটবেলা মানে কৈশরকাল কেটেছে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত এজিবি কলোনিতে। পড়ালেখা করতেন ঢাকার অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে। সে সময়ই তিনি যোগ দেন ছাত্রলীগে।
 
১৯৯৩-৯৪ সালে মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দুই বছরের দায়িত্ব পালনের মেয়াদে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দক্ষতার গুনে ১৯৯৩ সালে মনোনীত হন ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য পদে। পরের বছর ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নেন সদস্য হিসেবে।

এরপর ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনিত হন। এবং ১৯৯২ সালে ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন।

১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল এই চার বছর গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে এবং ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।



ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের শিক্ষা জীবন:
১৯৮৮ সালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ খেকে এস এস সি পাশ করেন। এইচ এস সি শেষ করেন ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে। ৯৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তেকে স্নাতক এবং ৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর ২০১৪ সালে এল এল বি ও ২০১৬ সালে এল এল এম ডিগ্রি লাভ করেন।

পেশাগত জীবনে তার যে যোগ্যতা অনায়াসেই ভালো কোনো সরকারি চাকরি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি চিরাচরিত সময় বাঁধা চাকরি না করে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যবসাকে। বর্তমানে তিনি আমদনীকারক প্রতিষ্ঠান, মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজ- এর সত্ত্বাধিকারী।