ঢাকা: ২০১৮-১২-১২ ১৮:২৩

Khan Brothers Group

‘পৃথিবীর নরক’ বন্ধ করতে হবে : গুতেরেস

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৫১ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট


ডেস্ক রিপোর্ট: সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অস্ত্রবিরতি নিয়ে চলছে টানাপড়েন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অস্ত্রবিরতি ঘোষণার পরও সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া সমর্থিত বাশার বাহিনী। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সিরিয়ায় অবশ্যই অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি তিনি সেখানকার চলমান পরিস্থিতিকে ‘পৃথিবীর নরক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর আলজাজিরা ও বিবিসি।

এদিকে পূর্ব ঘৌতায় বিমান হামলায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন হোয়াইট হ্যামলেটসের স্বাস্থ্যকর্মীরা। হোয়াইট হ্যামলেটসের দাবি, সেখানেই ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। হোয়াইট হ্যামলেটস নামে দেশটির সিভিল ডিফেন্স জানায়, অন্তত একজন শিশু ক্লোরিন গ্যাসে আক্রান্তে মারা গেছে। সিরিয়ার বিরোধী দলের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানায়, হামলার শিকারদের মধ্যে বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার আলামত মিলেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, অন্তত ১৮ জনকে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন নারী ও শিশুরও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানায় হোয়াইট হ্যামলেটস।

গত শনিবার থেকেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পূর্ব ঘৌতায় অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাশিয়াকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। সব দেশ অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে একমত হলেও সিরীয় সরকারের অন্যতম মিত্র রাশিয়া বলে আসছিলÑ অস্ত্রবিরতি তখনই কার্যকর হবে, যখন তারা এটি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে তার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হতে পারবে। এমন পরিস্থিতিতে গত রবিবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অস্ত্রবিরতি শুরু ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। যদিও অস্ত্রবিরতির আগে থেকেই পর্যবেক্ষক মহল, এটি কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে আসছিলেন। অবশেষে তাদের সেই সন্দেহই সত্যি হলো।

পূর্ব ঘৌতায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে সরকারি বাহিনী। এখন পর্যন্ত সেখানে ৫৪১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৫০ শিশুও রয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। রাজধানী দামেস্কের কাছে অবস্থিত এটিই সর্বশেষ এলাকা যেটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকাটির পুনর্দখল নিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে অভিযান জোরালো করে সরকারি বাহিনী। এতে শত শত মানুষ হতাহত হন। সম্প্রতি এক হাজার ২৪৪ সম্প্রদায়ের ৫৬ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার স্বার্থের কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব আনে কুয়েত ও সুইডেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে রাশিয়ার স্বার্থগত বিরোধে সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি পিছিয়ে যায় কয়েকবার। অবশেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরীয় অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। কিন্তু তার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়-সন্দেহ রয়েই গেল।

জেডসি