ঢাকা: ২০১৮-০৮-১৫ ৮:০৯

Khan Brothers Group

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:২৮ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১১:০৩ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি


নিজস্ব প্রতিবেদক: বসন্তের আগমনীতে মনে পড়ে কবির চিরায়ত বাণী ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত।  বসন্তে ফুল না ফুটবার চিরায়ত দ্বিধার ভেদ ভেঙে বসন্ত ঠিকই পা রেখেছে বাংলাভূমে। ফাগুনের বনও সেজেছে ফুলের সম্ভারে। কোথাও কোনো এক আকুল সখীর হৃদয় কুসুমে অনাদরে বিচ্ছেদের বিয়োগান্তক সুর বেজে যাবে। সেই দুঃখিনীদের নয়নের নীড় সুখীজনেরা না দেখুক না বুঝুক তবু আজ প্রাণজাগানিয়া বসন্ত। এত পাখির গান এত বাঁশির আয়োজন সবই সমর্পিত থাক আগুনঝরা এই ফাগুনে।  

শীতের জীর্ণতা সরিয়ে এসেছে ঋতুরাজ। আজ পহেলা ফাল্গুন, জীবনকে রাঙিয়ে দেয়ার দিন। কবি শামসুর রাহমান বসন্তের মায়ায় লিখেছেন, ‘গাছের শাখায় ফুল হাওয়ার সংস বে/যখন নীরবে দিব্যি সানন্দে দুলতে/ থাকে, পথচারী/ অথবা জানালা-ধরে-থাকা যুবতীর চোখ পড়ে/ কে জানে কী ছবি সব দোলে কিছুক্ষণ!/ বসন্তের মায়া রয়ে যায় বাস্তবিক নানাভাবে।’ সত্যিই বসন্ত ধরা দেয় নানাভাবে। আজ বসন্তের আগমনে কোকিলের কুহুতানে মুখরিত হবে শুধু শ্যামল সবুজ প্রান্তর নয়, এই শহরও। আর শুকনো পাতারা ঝরে গিয়ে জন্ম নেবে কচি নতুন পাতার। সেই পত্রপল্লবে, ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর ওই পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত আজ দেবে নবযৌবনের ডাক।

আজ প্রাণে প্রাণে মিলবে প্রাণ। ফুলের সৌরভে মেতে উঠবে চারিপাশ। বসন্তের রং ‘বাসন্তী’কে সঙ্গে নিয়েই শুরু হবে দিনের শুরু। গাঁদা ফুলের রঙেই আজ সাজবে তরুণীরা। পরবে বাসন্তী রঙের শাড়ি। খোঁপায় গুঁজবে ফুল, মাথায় টায়রা আর হাতে পরবে কাচের চুড়ি। তরুণরাও বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে নামবে বাংলার পথে-ঘাটে। বসন্ত মানেই কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা। তাই তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষ ঘরের বাইরে আসবেন। আর রাজধানীর বুকে বাসন্তী সাজে তারা ঘুরে বেড়াবেন শাহবাগ, চারুকলা আর টিএসসিতে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিণত হবে বাসন্তী রঙের বাগানে। রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, চারুকলার পেছনের সবুজ প্রাঙ্গণে ঘুরতে বেরুবে রাজধানীবাসী। আজ ঘরকুণো মানুষটিও হয়তো ঘর ছেড়ে বের হবেন। পলাশ-শিমুলের রঙে রাঙিয়ে নেবেন মন। হয়তো বসন্তের বিকেলটা বা সন্ধ্যাটা প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটিয়ে হবেন পরমসুখী।

এই বসন্ত কেবল আনন্দ-উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন স্মৃতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ারও যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। তাই বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। এ উৎসব এখন সব বাঙালির উৎসব।

এ উৎসবটির একটি ইতিহাস আছে। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম ও উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই বসন্ত উৎসব শুধু একটা উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য।

২৩ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রাজধানীতে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’- এই স্লোগান ধারণ করে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় গিটারে দীপন সরকারের ‘বসন্ত বাহার’ যন্ত্রসঙ্গীতের সুর মূর্ছনা দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। এরপর পারভেজ ও সুশান্ত যুগলভাবে পরিবেশন করেন রাগ ‘আহির বৈরভ’। এরপর পিয়াংকা প্যারিস গোমেজের ধ্রুপদি নৃত্য। সকালের পর্ব শেষ হয় সাড়ে ৯টায়।

এরপর আবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে চারুকলার বকুলতলা, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর এবং উত্তরার ৩নং সেক্টরের রবীন্দ্র স্মরণীর উন্মুক্ত মঞ্চে। এ উৎসবে থাকবে যন্ত্রসঙ্গীত, বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতি বন্ধনী, আবির বিনিময়, একক আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, একক সঙ্গীত, দলীয় সঙ্গীত, দলীয় নৃত্য। দেশের অগ্রগণ্য দল ও বরেণ্য শিল্পীরা অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণ করবেন। বসন্ত কথন পর্বে অংশ নেবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করবেন নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের। বসন্ত উৎসবের নানা আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল।

জেডসি