ঢাকা: ২০১৯-০২-১৬ ৯:৫৫

Khan Brothers Group

বাংলাদেশে পাখি দেখার সময়ই শীতকাল

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:৫৯ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতামত অনুযায়ী, উপমহাদেশে ২ হাজার ১০০টি প্রজাতির পাখি আছে। তবে এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩শ` প্রজাতির পাখি হিমালয় পেরিয়ে আমাদের দেশে চলে আসে। এরা শীতের অতিথি পাখি। সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দলবেঁধে আসে এসব পাখি। মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত এরা কলকাকলিতে আমাদের প্রকৃতিকে ভরিয়ে তোলে। এরপর শুরু হয় নিজ দেশে ফিরে চলা।

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বর-জানুয়ারি এ দু` মাসে সবচেয়ে বেশি পাখি এদেশে আসে। বাতাসে শীতের আমেজ লাগতেই আমাদের হাওর, বিল, চরাঞ্চলে দেখা যায় হাজার হাজার অতিথি পাখি। ইংল্যান্ডের নর্থ হ্যামশায়ার, সাইবেরিয়া কিংবা এন্টার্কটিকার তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এরা পাড়ি জমায় দক্ষিণের কম শীতের দেশে। প্রকৃতিগতভাবেই এ পাখিদের শারীরিক গঠন খুব মজবুত। এরা সাধারণত ৬০০ থেকে ১৩০০ মিটার উঁচু দিয়ে উড়ে যায়। ছোট পাখিদের ঘণ্টায় গতি ৩০ কিলোমিটার। দিনে-রাতে এরা প্রায় ২৫০ কিলোমটার উড়তে পারে। বড় পাখিরা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার অনায়াসে উড়তে পারে। আশ্চর্যের বিষয় এসব পাখি তাদের গন্তব্যস্থান সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পাখির রয়েছে বংশগত সূত্রে পাওয়া বিশেষ দিক নির্ণায়ক ক্ষমতা। শীত মওসুমে এদেশে আসা পাখিতের মাঝে সোনাজঙ্গ, খুরুলে, কুনচুষী, বাতারণ, শাবাজ, জলপিপি, ল্যাঞ্জা, রাজহাঁস, বালিহাঁস, হরিয়াল, দুর্গা, টুনটুনি, রাজশকুন, লালবন মোরগ, তিলে ময়না, রামঘুঘু, জঙ্গী বটের, ধূসর বটের, হলদে খঞ্চনা, কুলাউ ইত্যাদি প্রধান। গ্রীষ্মকালে সুমেরুতে বাস করে এবং বাচ্চা দেয় হাঁস জাতীয় এমন পাখি শীতকালে বাংলাদেশে আসে। লাল বুকের ক্লাইক্যাসার পাখি আসে ইউরোপ থেকে। আর অন্য সব পাখিরা আসে পূর্ব সাইবেরিয়া থেকে।

মওসুমী অতিথি পাখির কলরব আর গুঞ্জনে দেশের অন্যতম উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস । প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন লেকসহ এখানকার বিভিন্ন লেকে প্রায় ২০-২৫ প্রজাতির পাখি আসে। তবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখি হচ্ছে জেন্ডাসিগলা। জাডানিক বা সরালী হাঁস। দলবেঁধে শিস দিয়ে গান গেয়ে উড়ে যায় এরা। কালচে বড় লম্বা গলার এ সরালী পাখিকে দেখলে অনেকটা দেশী হাঁসের মতো মনে হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও মিরপুর চিড়িয়াখানার লেক, বরিশালের দুর্গাসাগর, নীলফামারীর নীল সাগর, সিরাজগঞ্জের হুরা, আর সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এসব অতিথি পাখিদের প্রিয় অবকাশ কেন্দ্র। বাংলাদেশের জলাশয়গুলোই যেন এদের পছন্দের স্থান। নিরাপদ আশ্রয়। বেশ কয়েক বছর যাবত নিঝুম দ্বীপ। দুবলার, চরকুতুবদিয়া এলাকাতেও শীতের পাখিরা বসতি গড়েছে।

সূত্র: ইন্টারনেট

ও/র