ঢাকা: ২০১৯-০৩-২১ ২১:৩৭

Khan Brothers Group

যানজটে নাকাল নগরবাসী

বিকেন্দ্রীকরণের তাগিদ

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৭:২৭ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৬:২৮ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার

শফিকুল ইসলাম: যানজটে নাকাল নগরবাসী। রাজধানীতে যানজট নিরসনে সরকার কয়েকটি ফ্লাইওভার ব্রীজ তৈরি করলেও তেমন একটা সুফল পাচ্ছে না। কারণ- ফ্লাইওভারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গাড়ি। বিআরটিসি, বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় প্রাইভেটকারের সংখ্যা বাড়ছে দ্বিগুণ হারে।

নগর পরিকল্পণাবিদরা বলছেন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে সিটিকে ডিসেন্ট্রালাইজ (বিকেন্দ্রীকরণ) করার বিকল্প নেই। তারা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে কিছু জায়গায় ছোট ছোট ফ্লাইওভার তৈরি করে যানজট কমানো সম্ভব নয়। রাজধানীতে যানজট কমাতে চাইলে সবার আগে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে লোকাল, এসি বাস কিংবা নন এসি বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

রোববার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, মৎসভবনের মোড়, শাহবাগ, রূপসী বাংলার মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট ঘুরে দেখা যায়, ভয়াবহ যানজটের চিত্র। গাড়ির চালক, যাত্রী ও সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার সকাল থেকেই এ রকম তীব্র যানজট লেগে আছে প্রতিটি সিগন্যালেই। স্বাভাবিক দিনে যে রাস্তা ১০ মিনিটে যাওয়ার কথা সেখানে আজ লাগছে এক ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ফ্লাইওভার দিয়ে শতকরা ১০-২০ ভাগ গাড়ি চলে না। একটা সমন্বিত পরিকল্পনা করে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা উচিত, সেটা হচ্ছে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পায়ে হাটা পথ আর যান চলাচলের রাস্তার পাশাপাশি ফ্লাইওভারের একটা সমন্বয় থাকা দরকার। যেভাবে দিন দিন লোকসংখ্যা বাড়ছে, এর সাথে গাড়ি সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদেরেএই স্বল্প আয়তনের রাস্তা দিয়ে যানবাহনের জট কমানো সম্ভব নয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের শহরে আশঙ্কাজনকহারে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, ট্রেনের যোগাযোগ বৃদ্ধি, পাবলিক বাসের মান ভালো করে বেশি বেশি বাস রাস্তায় নামলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। এদিকে অনেক রাজধানীবাসী অভিযোগ করে বলছেন, সরকার শুধু নতুন নতুন ফ্লাইওভার তৈরি করেই যাচ্ছেন। কিন্তু যানজটতো কমছে না। এক জায়গায় যানজট কমছে অন্য জায়গায় আবার বাড়ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান বলেন, উত্তরা যেতে সকাল ৯টায় সেগুনবাগিচা থেকে রওনা হন। মগবাজার হয়ে মহাখালী যেতেই সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা। তিনি বলেন, দিনের শুরুতেই যানজটে আটকে যাওয়ায় আমার মতো অনেক অফিসগামীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রামপুরা থেকে বিশ্বরোডগামী যাত্রীরা। তারা বলেন, ওই সড়কেও গাড়ি ধীরগতিতে চলেছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এক ঘণ্টার পথ যেতে তিন ঘণ্টা লেগেছে।

রাজধানী ঢাকার যানজট সমাধানের স্থায়ী ব্যবস্থা কি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক হাসান বলেন, আসলে ফ্লাইওভার দিয়ে রাজধানীর যানজট কখনোই দূর হবে না, একথাটি আমি আগেও বলেছিলাম এখনও বলছি। ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে হলে সিটিকে ডিসেন্ট্রালাইজ (বিকেন্দ্রীকরণ) করার বিকল্প নেই। মোট কথা  ঢাকার অফিস আদালত, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, গার্মেন্টস সহ শিল্প কারখানা এসব রাজধানী থেকে সরিয়ে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যেতে হবে। প্রতিটা জেলা শহরকে ঢাকার মতো উন্নত সুযোগ সুবিধা স্ট্যান্ডার্ড লিভিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে ঢাকা থেকে নদীর ভাটার মতো মানুষ সরে যাবে।