ঢাকা: ২০১৮-১০-২১ ২২:১৭

Khan Brothers Group

বিদায় ২০১৭ স্বাগত ২০১৮

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৭:১৫ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৬:১৯ পিএম, ৭ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার

অরণ্য আজাদ: মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নেবে বহু ঘটন-অঘটনের বছর ২০১৭। ভোরের সূর্যোদয় ঘটেছে নতুন আরেকটি বর্ষপরিক্রমায়। স্বাগত ২০১৮। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচলে কালের আবর্তে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেলো আরো একটি বছর। নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু হবে নতুন বছরের। বিশ্বজুড়ে এক অস্থির সময়কালে আগমন ঘটল নতুন বছরের।

পুরনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানেই আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। নতুন সালকে স্বাগত জানিয়ে এবং নতুন বছরে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংগঠন।

ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাজধানীসহ সারাদেশে নানা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর অভিজাত হোটেল, ক্লাব ও কূটনৈতিক পাড়ায় গতকাল মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় উৎসব। শহরে বসানো হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উৎসব চলবে আজ দিনব্যাপী।  মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে শুভেচ্ছা বার্তা। বিলি হচ্ছে কার্ড, নানা উপহার। অভিজাত ক্লাবগুলো বিশেষ পার্টির আয়োজন করেছে। রয়েছে কনসার্ট, ফ্যাশন শো, ডান্স শো, কোরিওগ্রাফি ও র্যাফেল ড্র।

পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ করে নেয়াই মানুষের সহজাত ধর্ম। আবহমান কাল ধরে মানুষ পুরাতনকে শুকনো ঝরা পাতার মতো ত্যাগ করে নতুন কুঁড়ির উদগমন হৃদয়াঙ্গম করে। ইংরেজি নতুন বছর ২০১৮ কে জানাই সাদর সম্ভাষণ।

অতীতের স্বীয় ব্যর্থতার গ্লানিকে পিছনে ঠেলে দিয়ে নতুন বছরের পথ পরিক্রমণে যাত্রাকালে চেনা এ পৃথিবীটার সবার জন্যে সুখ কামনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এক বুক অনাবিল আনন্দ সিঞ্চনে স্বাগত জানাই নতুন বছরের নবীন প্রভাতের নবীন সূর্যকে। আজ ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। দিনটিতে সারা বিশ্বে উদযাপিত হবে ইংরেজি নববর্ষ।

অতীত সবসময়ই ইতিহাস। এ বছরের ভুলগুলো শুধরে সমস্ত ইতিহাস থেকে ভালো শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতাকে বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য এখন আমাদের সামনে তাকানোর দিন, দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যাওয়ার দিন। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা সীমিত। কল্পলোকে বিচরণের চেয়ে বাস্তবকে তারা গুরুত্ব দেয় সব সময়ই। বাংলাদেশ এক অদ্ভুত সম্ভবের দেশ। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই এ দেশের মানুষ শত শত বছর ধরে টিকে আছে। বিপদে দুর্যোগে উন্নত বিশ্বের মানুষ যখন প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা সেখানে নির্ভয়ে নেমে পড়ে অতল গহ্বরে। এ দেশের চাষি, কুলি, কামিন, মুটে মজুরেরা সোনার ফসল ঘরে তোলে। তাদের শ্রমঘামেই বাড়ছে বার্ষিক মাথাপিছু আয়। সুখবর যেমন আমাদের আন্দোলিত করে তেমন খারাপ খবরও করে তোলে ব্যথিত, বেদনার্ত। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে কয়েকটি ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। জঙ্গিবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতাও ছিল দেখার মতো।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাছাউনি ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে আক্রমণের জের ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে। ‘অপারেশন ক্লিয়ারেন্স’ নামের এই অভিযানে সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের অনুসৃত কুখ্যাত যুদ্ধকৌশল ‘Three All Policy’ অনুসরণ করে; যার মূলে ছিল, সবাইকে হত্যা করো, সব কিছু পুড়িয়ে দাও, সব কিছু লুট করো। এটি ছিল সম্পূর্ণরূপে একটি পোড়ামাটি নীতি, যা অনুসরণ করতে গিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, সশস্ত্র মগ ও উগ্রবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে নিরীহ ও নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের। সেনাদের হিংস্র লালসার শিকার হয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী। গণধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয় তারা। প্রকাশ্যে নগ্ন করে হেয় করা হয় তাদের। অঙ্গ কেটে ও শিরশ্ছেদ করে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয় যুবক-যুবতীদের। এই অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।  

আমাদের প্রত্যাশা হোক নতুন বছর বয়ে আনবে সমৃদ্ধির বার্তা, প্রতিহিংসামুক্ত গণতান্ত্রিক চেতনাসমৃদ্ধ সুস্থ পরিবেশ। আমরা সব সময় আশাবাদী। আমরা স্বপ্ন দেখি সামনের দিনগুলো সুন্দর হবে। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে, বৈরিতার পরিবর্তে সৃষ্টি হবে সহযোগিতার পরিবেশ। দেশের মানুষ অস্থিতিশীল পরিবেশকে পেরিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকুক এই প্রত্যাশা করি। নতুন বছরে মর্মান্তিক কোনো সড়ক দুর্ঘটনা, ভয়াহত অগ্নিকাণ্ড, শিক্ষাঙ্গণে প্রাণহানি, লাখো-কোটি মানুষের ভাগ্য বিপর্যয়কারী অনিয়ম-দুর্নীতি আমরা দেখতে চাই না। নতুন বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয় ও আয়ু বৃদ্ধি পাক। চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরো উন্নত প্রযুক্তি আসুক। যোগাযোগ যাতায়াত ও শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। রাজনৈতিক সমঝোতা সহানুভূতি সহনশীলতার ক্ষেত্রে সবাইকে তাক লাগানোর মতো পরিবর্তন আসুক। হতাশার পরিবর্তে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে যাক। আসুন সবাই মিলে নতুন বছরে নতুন করে সুন্দরভাবে বাঁচতে ঐক্যবদ্ধ হই। সুখে-দুঃখে একে-অপরের পাশে দাঁড়াই। আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসামপ্রদায়িক, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমরা এগিয়ে যাবো। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আমরা পাবো সেই ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’।