ঢাকা: ২০১৮-১০-২৪ ৮:৪৩

Khan Brothers Group

বিদ্যুৎখাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে : মোহাম্মদ হোসাইন

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:৩৫ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ১২:৪৫ পিএম, ২২ মে ২০১৮ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়ায় এখাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন হয়েছে। দেশের জনসাধারণ বিদ্যুতের  সুফল ভোগ করছে এখন। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক কোটি ৬০ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ শতাংশ হতে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এশিয়ানমেইল২৪.কম-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এশিয়ানমেইল২৪.কম-এর চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি তাওহিদ মাওলা।

মোহাম্মদ হোসাইন দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালে সহকারি পরিচালক হিসেবে প্রথম পাওয়ার সেলে যোগদান করেন। এরপর বিভিন্ন মেয়াদে উপ-পরিচালক এবং পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রকৌশলীদের পেশাদারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউনশন অব বাংলাদেশ, ঢাকা কেন্দ্রের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি বিশ্বের ২৫ টিরও বেশী দেশ ভ্রমণ করেছেন। মোহাম্মদ হোসাইন বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (JSC) একজন সদস্য  এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সার্ক এনার্জি সেন্টারের গভর্নিং বোর্ডের একজন সদস্য। একই সাথে তিনি South Asia Regional Initiative/Energy (SARI/E) এর পলিসি ও লিগ্যাল ইস্যু সংক্রান্ত টাস্কফোর্সসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি D-8 ওয়ার্কিং গ্রুপের  অন্যতম সদস্য। তিনি UN-ESCAP এর জ্বালানি বিশেষজ্ঞ গ্রুপেরও একজন সদস্য।

মোহাম্মদ হোসাইন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) থেকে স্নাতক এবং আইবিএ (IBA), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ডেনমার্ক থেকে Institutional and HRD (IHRD) বিষয়ে স্নাতকত্তোর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দেশ ও বিদেশে বিদ্যুৎখাতের বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন যা সমাদৃত হয়েছে। মোহাম্মদ হোসাইন এর প্রকাশনা বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এশিয়ান মেইল : বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কি ধরনের উন্নতি হয়েছে?

মোহাম্মদ হোসাইন : আসলে যেকোন সরকারের সফলতা নির্ভর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উপর। এ কথা সর্বজনবিদিত যে, ২০০৯ সালের আগে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল অসহনীয়, জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের শিকার ছিল মানুষ। শিল্প, বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় অর্থনীতি ছিল পর্যুদস্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের বিদ্যুতখাতের উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। নিবিড় তদারকির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বর্তমান সরকার বিদ্যুত খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের আপামর জনসাধারণ তার সুফল ভোগ করছে।
২০০৯ সালের আগে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগা ওয়াট। আর এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার মেগা ওয়াটেরও বেশি। আগে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। আর এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখে। কমেছে সিস্টেম লস, বেড়েছে সঞ্চালন লাইন। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭টি। এখন এ সংখ্যা ১১১টি।

এশিয়ান মেইল : আপনি বলছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট-এ পৌঁছেছে। কিন্তু তারপরও প্রচুর  লোডশেডিং এর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
 
মোহাম্মদ হোসাইন : ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬০ লাখ নতুন গ্রাহকদের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ শতাংশ হতে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ২ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা হতে ৪৩৩ কিলোওয়াট ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুতের সুবিধাভোগী সংখ্যা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও বিদ্যুতের লোডশেডিং বহুলাংশে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।  এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর তা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো হয়। উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকলেও বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামে এখনো কিছু কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য লোডশেডিং হয়, যা দূর করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।


 
এশিয়ান মেইল : গত সাড়ে আট বছরে কি পরিমাণ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে?

মোহাম্মদ হোসাইন : বর্তমান সরকারের আমলে গত সাড়ে আট বছরে ৮৪টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২ হাজার ৪৩৬ কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণপূর্বক ১ কোটি ৬০ লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।  

এশিয়ান মেইল : বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপন করা না গেলে সফলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

মোহাম্মদ হোসাইন : বিদ্যুৎ ছাড়া সভ্যতার অগ্রযাত্রা অকল্পনীয়। যেকোন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের ন্যায় আমিও মনে করি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা না গেলে বিদ্যুৎ খাতের অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা যাবে না। সে জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রামপাল, পায়রা এবং মাতারবাড়ীতে ৩টি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। আশা করি, ২০১৯ সাল হতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন না হওয়ার কোন কারণ নাই ।

এশিয়ান মেইল : এখন তেলের দাম কম হওয়ায় মোটামুটি সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ মিলছে। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়ে কী ?

মোহাম্মদ হোসাইন : বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অংশ তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উপর নির্ভরশীল। তবে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করছে। কয়লাভিত্তিক মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেয়ার আরো কমে যাবে এবং তার পরবর্তী বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তি হতে ১০% বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তি হতে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপরন্তু দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে Economic Way বিদ্যুৎ আমদানি করছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে এবং সাধারণ মানুষ নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে।


এশিয়ান মেইল : ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কক্সবাজারের মাতাবাড়িতে কয়লা ধরে রাখার জন্য যে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে সেটির বর্তমান অবস্থা কী ?

মোহাম্মদ হোসাইন : কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে একটি কোল টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে ইপিসি ঠিকাদার কনসোর্টিয়াম অফ সুমিটোমো কর্পোরেশন ও তোশিবা করপোরেশন-এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের চুক্তি চলতি বছরের ২২ জুলাই এবং ২২ আগস্ট কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ বিরামহীন গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পটির ১ম পর্যায়ের কাজ ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি শেষ হবে এবং ২য় পর্যায়ের তথা প্রকল্প শেষ হবে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ।

এশিয়ান মেইল : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ নির্মাণে কেন এতো সময় লাগছে ? সরকারের জন্য আট বছর সময় কী পর্যাপ্ত সময় নয় ?

মোহাম্মদ হোসাইন : পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, পরিবেশগত সমীক্ষাসহ বিভিন্ন ছাড়পত্র গ্রহণ; অর্থায়ন অনুসন্ধান ও নিশ্চিতকরণ থেকে শুরু করে প্রকল্প নির্মাণ চুড়ান্ত রূপ দেয়া পর্যন্ত সাধারণভাবেই চার-পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, কয়লাভিত্তিক সকল প্রকল্প যথাসময়েই সমাপ্ত হবে; যার সুবিধা ভোগ করবে দেশের ১৬ কোটি জনগণ।  


এশিয়ান মেইল : সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সেটা কি আদৌ সম্ভব বলে আপনি মনে করেন ?

মোহাম্মদ হোসাইন : নিশ্চয়ই সম্ভব। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বর্তমান সরকার বিদ্যুৎখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দেশের সকল জনগণের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে এবং ২০২১ সালের মধ্যে আরো ১৬ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন বা পরিকল্পনাধীন। আশা করা যায়, ২০২১ সালের পূর্বেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
 
এশিয়ান মেইল : পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওভারহোলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সাফল্য এখনো নাগালের বাইরে কেন? এতে করে ৮-১০ গুণ বেশি মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে সরকারকে বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না?

মোহাম্মদ হোসাইন : এ ধরনের অভিযোগ মোটেও সত্য নয়। আমরা বেশ কিছু গ্যাসভিত্তিক সিঙ্গেল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করেছি। ঘোড়াশালসহ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে আরো কয়েকটি পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ওভারহোলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার ষ্টেশনে’ রূপান্তরিত করা হচ্ছে। যার মানে দাঁড়াচ্ছে, পুরাতন একটি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষম কেন্দ্রকে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এমন ১১টি অদক্ষ ও পুরাতন শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আর ৮-১০ গুণ দাম দিয়ে বিদ্যুৎ কিনছি-এটা ঠিক নয়।  তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে সরকার যে বিদ্যুৎ কিনছে তাতে কিছুটা বেশি দাম পড়ছে।
 
এশিয়ান মেইল : বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে সব জ্বালানি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে ৬৩% গ্যাস, ২৮% তেল এবং ২.৫% কয়লা ব্যবহার করা হয়। বাস্তবে কোন জ্বালানিতে উৎপাদন হলে গ্রাহক কম দামে বিদ্যুৎ পাবে?

মোহাম্মদ হোসাইন : প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সব চাইতে সাশ্রয়ী। ১০০% বিদ্যুৎ গ্যাসভিত্তিক হলে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যেত।  কিন্তু প্রাকৃতিক  গ্যাসের মজুতের সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করছে। কেননা মূল্য বিবেচনায় গ্যাসের পর কয়লা ব্যবহারই করাই শ্রেয়।  

এশিয়ান মেইল : বিদ্যুত সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানে সরকারের বাস্তব ভিত্তিক পরিকল্পনা আছে কি ?

মোহাম্মদ হোসাইন : বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণপূর্বক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ ব্রান্ডিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনা ২০১৬ এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়ে উন্নত দেশে পরিণত হবো, ইনশাআল্লাহ।

এশিয়ান মেইল : আপনার এলাকা শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জ নিয়ে কোন ভাবনা আছে কি?  

মোহাম্মদ হোসাইন : পেশাগত দায়িত্বের কারণে শুধুমাত্র নিজের এলাকা নিয়ে ভাবাটা কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। আমাকে ভাবতে হয় সমগ্র দেশকে নিয়ে। তবে শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জের উন্নয়নে এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে নানাবিধ সামাজিক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অবদান রেখে যাচ্ছি। এছাড়াও এলাকার অসহায়, দরিদ্র, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানেও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। অদূর ভবিষ্যতে আমি শাহরাস্তি-হাজিগঞ্জ এলাকাকে সমগ্র দেশের সামনে একটি উন্নয়নের মডেল হিসাবে উপস্থাপনের স্বপ্ন দেখি।   
    
এশিয়ান মেইল : ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা আছে কি ?

মোহাম্মদ হোসাইন :  আমার রাজনীতি ছাত্রাবস্থা থেকেই শুরু। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান আমার আশৈশব আদর্শ এবং জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার পথ প্রদর্শক। তাঁর একজন সক্রিয় সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিতে আমি সব সময়ই গর্ব অনুভব করি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ‘বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনার’ রাজনীতি করার কারণে নানা ধরনের নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হয়েছি। কিন্তু কোনকিছুই আমাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি কিংবা আদশর্চ্যুত হইনি। অনেক প্রতিকূল অবস্থাতেও আদর্শচ্যুত হইনি, সামনে বিপদ দেখেও রাজপথ ছাড়িনি। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং আমি রাজনীতির মধ্যেই আছি এবং যতদিন মহান আল্লাহ পাক তৌফিক দেন, ততদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। তাই যদি রাজনীতি হয়, তবে তাই হোক। সুযোগ পেলে জনগণের সেবায় নিজেকে আরো নিবিড়ভাবে নিয়োজিত করবো।

শই/এমকে/একে