ঢাকা: ২০১৯-০২-১৬ ৯:৩৫

Khan Brothers Group

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের ভালো করার ক্ষমতা আছে

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৮:৩৩ পিএম, ১০ জুন ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৮:৩৫ পিএম, ১০ জুন ২০১৮ রবিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট: হোসে মরিনহো, একালের ক্লাব ফুটবলের কোচদের মধ্যে এই পর্তুগিজের নামটি বোধ করি সবার আগে আসে। ক্লাব ফুটবলে সফলতার হরেক রঙিন পালক তার টুপিতে, আর তার থলে ভরা ঈর্ষণীয় নানা পদকে; তবে সবকিছু ছাপিয়ে মরিনহোর আগ্রহ এখন ফুটবলের সবচেয়ে বড়, সবচে জাঁকালো আসর ‘‘ফুতবল মুন্দিয়াল’’ বা বিশ্বকাপ ফুটবলের দিকে। এসব নিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী জিকিউ কথা বলেছে তার সঙ্গে। সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল বাংলায়:
      
বিশ্বকাপ নিয়ে এখনো কি আপনার মনে রোমাঞ্চ জাগে?
হোসে মরিনহো: হ্যাঁ, অবশ্যই। ফুটবল ভালোবাসে এমন প্রতিটি মানুষই বিশ্বকাপ নিয়ে রোমাঞ্চ বোধ করে। একটা কথা আমি বরাবরই বলে থাকি, বিশ্বকাপ ব্যাপারটা ফুটবলের চেয়ে বেশি কিছু। আমার দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ (ফুটবল) ও অলিম্পিক হচ্ছে দুনিয়ার সবচে মহার্ঘ দুই ঘটনা। আর আমি এমনটাই মনে করি, যদিও সেরা ফুটবল যে বিশ্বকাপেই খেলা হয়ে থাকে, আমি তা মনে করি না। কেন আমি এমনটা মনে করি? এর কারণ, ক্লাব পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার জন্য অনেক বেশি সময় পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক দলগুলোর বেলায় সে সুযোগ থাকে না।

আপনার দৃষ্টিতে সম্ভাব্য বিশ্বকাপজয়ী কারা?

হোসে মরিনহো: (লিওনেল) মেসি ও (ক্রিস্তিয়ানো) রোনালদোর মতো খেলোয়াড়েরা এতোই ভালো যে, ওদের টিম কাগজে-কলমে যেমন, ওরা দুজন নিজেদের দলকে তারও চেয়ে ঢের বেশি ভালো দল বানিয়ে দিতে পারে। তাই আমি মনে করি, ভালো করার ক্ষমতা আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের আছে। ম্যানেজার তিতের কারণে কৌশলগত ও রক্ষণগত দুদিকেই ভালো খেলার ক্ষমতা ব্রাজিলের রয়েছে। এখনো সহজাত ব্রাজিলীয় প্রতিভায় ভরপুর তারা। প্রাণভরে দেখবার মতোই একটা দল তারা। আর ইউরোপীয় দলগুলোর কথায় যদি আসি তো বলবো, কোয়ালিফাইং রাউন্ডে সত্যিই দারুণ নজর কেড়েছে স্পেন। এক ঝাঁক উঁচুমানের খেলোয়াড় আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মিশেলে গড়া এই দল। তবু নিশ্চিত করে বলার যো নেই...বিশ্বকাপ সমসময়ই বিস্ময় আর চমকে ঠাসা।

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোআপনার দৃষ্টিতে সবচে সেরা বিশ্বকাপ খেলোয়াড়টি কে?

হোসে মরিনহো: এ প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারবো না। এটা খুবই কঠিন কাজ। আমার জন্ম ১৯৬৩ সালে, সুতরাং ১৯৬৬র বিশ্বকাপটা আমার জন্য ছিল বড্ড আগের। তবে ফুটবলের ইতিহাসটা আমার ভালোমতোই জানা; আর স্যার ববি চার্লটন ও ইউসেবিওর মতো খেলোয়াড়েরা ছিলেন তখন। ১৯৭০ এর পরের সব দল আর খেলোয়াড়ের কথা আমার মনে আছে। আর এতো এতো পছন্দের খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে আপনি কাকে রেখে কাকে বেছে নেবেন...(ফ্রাঞ্জ) বেকেনবাউয়ার, পেলে, (দিয়েগো ) মারাদোনা ও ব্রাজিলের রোনালদো। এতো এতো মহাতারকা! আর প্রতি চার বছরে একজন নতুন তারকার আবির্ভাব ঘটে! বিভিন্ন প্রজন্মের খেলোযাড়দের মধ্যে তুলনা করাটা আমার পক্ষে অসম্ভব।

আপনি বলেছেন আপনার বাবা-মার এখনো নাকি দিব্যি মনে আছে, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড যখন সেমিফাইনালে পর্তুগালকে হারায়, তখন আপনিও খেলাটি দেখছিলেন... আপনি কি মনে করেন পর্তুগাল কোনোদিন এর বেশিদূর যেতে পারবে?  

হোসে মরিনহো: ২০০৬ সালে পর্তুগাল আবারও সেমিফাইনালে উঠেছিল। আর আমরা ২০১৬-র ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি। এর মানেটা দাঁড়ায়, আমরা বিশ্বের সবচে সেরা দলগুলোর একটি।  পর্তুগাল এমনই এক দেশ যেখানে সব সময়ই নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসে। আর আমি মনে করি, দু’বছর আগে জাতীয় দলে যে ধরনের খেলোয়াড় ছিল, তাদের চেয়ে ঢের বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড় বর্তমান দলটিতে আছে।  সুতরাং যে কোনো কিছু করে বসতে পারে পর্তুগাল।এর মানে, আমরা কি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হবো? একথা বলবার ধৃষ্টতা অবশ্য আমার নেই; তবে আমাদের দিনে আমরা যে কোনো দলকেই কুপোকাত করতে পারি।

আপনি ফুটবলকে যে নিজের ক্যারিয়ার করে নিলেন, বিশ্বকাপের কোনো বিশেষ মুহূর্ত কি এক্ষেত্রে আপনাকে প্রেরণা জুগিয়েছে?

হোসে মরিনহো: আমি বলবো সেই মুহূর্তটির কথা, যে মুহূর্তে দলনেতা বিশ্বকাপটা উঁচিয়ে ধরেন। আর দুটো কাপ আমার কাছে সবচে গুরুত্বপূর্ণ ---চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ। যখন আপনি পুঁচকে ছেলে, অথবা কমবয়সী ফুটবলার, অথবা যখন আপনি একজন তরুণ কোচ আর তখন যদি আপনি দ্যাখেন যে, একজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপ ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেছে তখন ওই পর্যায়ে এসে সেই স্বপ্ন আপনাকেও হাতছানি দেবে। যখন আমি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি উঁচিয়ে ধরছিলাম তখন এনিয়ে (বিশ্বকাপ) কতো না ভেবেছি...

টিভিতে এখন এতো বেশি ফুটবল আর ক্লাব ফুটবলের এতো রমরমা, এ অবস্থায় বিশ্বকাপ এখনও কি সেই ‘‘স্পেশাল টুর্নামেন্ট’’ আছে?

হোসে মরিনহো: হ্যাঁ আছে, কেননা আজও এটি স্পেশালই। এটি ফ্যানদের জন্য স্পেশাল, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য স্পেশালই আছে; আর বিশ্বকাপের আসরটি বসে গ্রীষ্মে। আমি সবসময়ই ভাবি, যখন জাতীয় দলগুলো বিশ্বকাপে খেলে তখন গোটা দেশ থমকে দাঁড়ায়। আপনি যদি যে কোনো দেশের যে যে কোনো সড়ক দিয়ে হেঁটে যান আর সে মুহূর্তে যদি ওই দেশের জাতীয় দলের খেলা চলতে থাকে, তাহলে আপনি আস্ত একটি দোকান চুরি করে নিলেও তা কারো নজরে পড়বে না। এটা এমনই চমৎকার টুর্নামেন্ট যে, যেসব লোক মোটেই ফুটবলপ্রেমী নয়, তখন তারাও কিন্তু জাতীয় দলের প্রেমে পড়ে যায়।

বছরকয় আগে আপনি বলেছিলেন, যখন ক্লান্তি আপনাকে পেয়ে বসবে তখন আপনি পর্তুগাল দলের ম্যানেজার হবেন...আপনি কি হাঁপিয়ে ওঠার খুব কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁছে গেছেন?

হোসে মরিনহো: না না, মোটেই তা নয়! আমার হাঁপিয়ে উঠতে এখনো অনেক দেরি। আমি মনে করি কোনো ক্লাবের কোচ হওয়াটাই আমার আসল কাজ। কেননা প্রতি সপ্তাহেই আমি ম্যাচ খেলতে চাই এবং প্রতিদিনই অনুশীলন করাতে চাই। আমি বলতে চাই, কয়েকবছর আগে যতোটা হাঁপিয়ে ওঠার অবস্থায় ছিলাম এখন তা আগের চেয়ে দূরআস্ত! (সংগৃহিত)

ও/র