ঢাকা: ২০১৮-০৯-২০ ১৪:৫১

Khan Brothers Group

ভালোবাসি ভালোবাসি

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:৫২ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৭:৫৮ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট


নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বসন্তের উতলা হাওয়ার এমন দিনে মনের মানুষটির পানে একগুচ্ছ গোলাপ তুলে দিয়ে অনেকেই বলবেন, ‘ভালোবাসি, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ওপ্রান্ত থেকে হয়তো কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না। হয়তো সে চুপ করে থাকবে। হয়তো সব জড়তা ভেঙে বলতে পারে, ‘আমিও তোমায় ভালোবাসি।’ আজ ভালোবাসার জয় হবেই। আজ যে ভালোবাসার দিন, ভ্যালেন্টাইন্স ডে।

বসন্তের ঝিরিঝিরি বাতাসে আজ হারিয়ে যাবে প্রেমিকযুগল। সব আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে বুঝিয়ে দেবে ভালোবাসার গভীরতা। মানব-মানবীর চিরকালের যে প্রেম তার জয়গান হবে চারদিকে। আজকের এই রাঙা সকাল, বিকাল বা সন্ধ্যাটা একসঙ্গে কাটিয়ে প্রেমিকযুগল গাইবে ভালোবাসার গান। অনেকের জন্য যেমন আজকের কোনো একটা সময় হবে ভালোবাসার প্রথম প্রহর, তেমনিভাবে অনেকে উদযাপন করবেন একসঙ্গে পথচলার কয়েক বছর।

দিনটি ভালোবাসার। হৃদয়ের গহিনে লুকিয়ে থাকা কিংবা রোজকার ভালোবাসা নতুন করে রাঙিয়ে নেওয়ার দিন আজ। ভালো তো বাসিই ভেবে এতদিন হয়নি যে কথা বলা, তিন শব্দের সেই কাক্সিক্ষত কথাটি- ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলার দিন আজ। ভালোবাসা নিয়ে অজস্র কবিতা আর গান মুখে মুখে, মনে মনে, সুরে-বেসুরে আবৃত্তি আর গীত হয়ে জলে-স্থলে, বনে-জঙ্গলে ভেসে বেড়ানোর দিন আজ।

ভালোবাসা কি আর দিন গুনে হয়! ভালোবাসা মনের এই অনুভূতি প্রকাশ পায় বছরের ৩৬৫ দিনই। তবে ভালোবাসার জন্য যে বিশেষ একটি দিন, সেটাও তো উপেক্ষা করা কঠিন। তাই ভালোবাসা দিবস বিশেষই বটে।

ভালোবাসতে প্রিয় মানুষটির জন্য দিনটি বরাদ্দ রাখতে পারেন কিংবা প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন কিছুটা সময়। ভালোবাসা দিবস প্রসঙ্গে রবিঠাকুরের ভালোবাসার গানগুলোকে সুরেলা গায়কীতে ব্যাকুল করে রাখা রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অনিমা রায় বলেন, আমি যতটুকু জানি এক হৃদয়বিদারক প্রেমের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি। এ কারণেই হয়তো ভালোবাসা দিবসে প্রেমিক যুগলই বেশি উৎফুল্ল থাকে।

আজকের দিনে সবকিছুতেই প্রাধান্য পাবে ভালোবাসার মানুষটির পছন্দ। তাই প্রিয় মানুষটি প্রিয় রং বা প্রিয় পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে উপস্থিত হবেন আরেকবার। তবে ভালোবাসার রং লাল বলে বেশির ভাগ যুগলই নিজেদের সাজাবেন লালে। নতুন করে একে অপরের প্রেমে পড়বেন। নিজেদের মতো করে কাটিয়ে দেবেন সারাটি দিন।

আজ ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকযুগলের পদচারণায় মুখর থাকবে শহরের নানা পথ-প্রান্তর। দু’জনে দু’জনার হাত ধরে ঘুরবে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। কারণ আজ নিজেদের মতো করে হারিয়ে যাওয়ার দিন। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ছবি-সেলফি তোলা চলবে। অনেক যুগল রিকশায় ঘুরে বেড়াবেন। অনেকে আবার বিভিন্ন উদ্যানে-পার্কে গাছের ছায়ায় বসে মন খুলে কথা বলবেন।

রাজধানীতে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। তাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ মেতে থাকবে ভালোবাসার উৎসবে। টিএসসি, শাহবাগ, চারুকলা, ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরও থাকবে যুগলদের পদচারণায় মুখর।

অনেকে আবার ধানমণ্ডি, বনানী, গুলশান, উত্তরার ফাস্টফুড ও কফিশপগুলোতে মিলিত হবেন। রাজধানীর শপিংমলের ফুডকোর্ট যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটিতে চলবে খাওয়া-দাওয়া। অনেকে আবার একসঙ্গে সিনেমা দেখবেন। কেউ কেউ হয়তো প্রেয়সীকে নিয়ে একেবারেই নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর জন্য লং ড্রাইভে চলে যাবেন দূরে কোথাও।

আবার ভালোবাসার দিনটিতে দু’জন দু’জনকে উপহার দেয়ার প্রচলন আছে। আজ চকোলেট, পারফিউম, বই, প্রিয় পোশাক, আংটি, ঘড়ি, খেলনা উপহার হিসেবে দেয়া-নেয়া চলবে। তবে সবচেয়ে বেশি দেয়া-নেয়া হবে রক্তগোলাপের। পাশাপাশি প্রেমবার্তা, শুভেচ্ছা কার্ড, ই-মেইল, মোবাইলে এসএমএস পাঠানো চলবে সমান তালে।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে তারুণ্যেরই জয়জয়কার দেখা যায়। আর দিবসটির মূলত প্রেমিক-প্রেমিকা বা মানব-মানবীর চিরায়ত প্রেমকেই বোঝানো হয়ে থাকে। ভালেন্টাইন্স ডে আমাদের দেশে এখন ঘটা করে পালন করা হলেও ভালোবাসার ইতিহাসটি বিদেশি সংস্কৃতির হওয়ায় তা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পুরোপুরি যায় না। তাছাড়া ভালোবাসাকে একটা নির্দিষ্ট গতিতে আবদ্ধ করাও ঠিক নয়। আমরা দেখেছি রবিঠাকুরের লেখনীতে মানব-মানবী, প্রকৃতি, পূজা, মানবতা সবকিছুর প্রতি প্রেম এত সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে যে, তা আমরা যে কোনো পরিবেশে, যে কোনো আনন্দ-বেদনাতেই গাইতে পারি। ভালোবাসা দিবসটাও প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, পরিবার-পরিজন সবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিন হওয়া উচিত।

তবে ভালোবাসা দিবস উদযাপনের এই রীতিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখেন অনিমা রায়। বলেন, এই যে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর, কোথাও খাওয়ার, একজন আরেকজনকে মনের কথা জানানোর সুযোগ পাচ্ছি এটাও তো মন্দ নয়।

আজ ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে নানারকম আয়োজন রয়েছে। নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রয়েছে কবিতা আবৃত্তি, গান, নাটকের মঞ্চায়ন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিনটি উপলক্ষে প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

জেডসি