ঢাকা: ২০১৯-০২-১৬ ৮:৫৫

Khan Brothers Group

মাদক সহজলভ্য হয়ে যাওয়াটাই মূল সমস্যা

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:২৪ পিএম, ২২ মে ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৫:৪৪ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে মাদক অত্যন্ত সহজলভ্য হয়ে যাওয়াটাই এর ভয়াবহ বিস্তারের মূল কারণ।আর একবার এই মরণফাঁদে কেউ পা দিলে তার আর বেরিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই।তাই মাদক সরবরাহের মূল জায়গাগুলো আগে বন্ধ করতে হবে, খুচরা ব্যবসায়ীদের ধরার আগে গড ফাদারদের ধরতে হবে। এ নিয়ে ঢাকার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র - মুক্তি`র প্রধান কনসালটেন্ট ড. আলী আসকার কোরেশী এবং নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। পাঠকের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো-

ড. আলী আসকার কোরেশী বলেন,  ``আমরা লক্ষ্য করছি, দিন যতই যাচ্ছে, মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতটাই বেড়েছে যে, সমাজের একেবারে ১০/১২ বছরের বাচ্চা থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। সমাজের গরীব থেকে শুরু করে একদম উচ্চশ্রেণী, সকল শ্রেণীর ছেলেমেয়ে এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।``

মাদক অত্যন্ত সহজলভ্য হয়ে পড়াটাই এর জন্য বেশি দায়ী বলে তিনি মনে করেন। একসময় যারা নেশা করতো, তারা এখন নেশার পাশাপাশি বিক্রির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে।

মি. কোরেশী বলছেন, ``আগে হয়তো এটা কেনার জন্য মাদকাসক্তদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো, দূরদূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু এখন আর সেই ব্যাপার নেই। মোবাইল ফোন আছে, একদম বাসায় ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে।``

তিনি বলছেন, ``আমাদের কাছে এখন ইয়াবা বা মেটামফিটামিন জাতীয় মাদকাসক্তরাই বেশি আসছে। একসময় হেরোইন আসক্তরা বেশি আসতো, কিন্তু সেই প্রকোপটা এখন অনেক কম। এখন কিন্তু বেশিরভাগই ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়ছে।``

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ বিষয়ে মি. কোরেশী বলন, ``কিছুদিন ধরে অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি, ৩৫ বা ৪০ বছরের অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্য আসছে, যারা মাত্র কয়েকবছর ধরে নেশা করতে শুরু করেছে। সাধারণত যে বয়সে নেশাসক্ত হয়, সেই বয়সে তারা ভালো থাকলেও এই পরিণত বয়সে এসে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।``

অন্যদিকে, অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন ``অনেক সময় আশেপাশে বন্ধুদের দেখে কৌতূহলের বশে হয়তো নেশা করতে শুরু করেছে। কিন্তু একবার শুরু করার পর তারা আর বেরিয়ে আসতে পারছে না।`` বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভয়াবহ।

ফিলিপিনে রডরিগো দুতার্তের সরকার গত বছর মাদকের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তাতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮শ`-রও বেশি মাদকসেবী, বিক্রেতা বা পাচারকারী নিহত হয়েছে - যাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো `বিচার-বহির্ভূত হত্যা` বলে আখ্যায়িত করেছে।

বাংলাদেশেও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ-র‍্যাবের যে অভিযান শুরু করেছে, তাতে প্রতিদিনও বন্দুক যুদ্ধে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গত দুই সপ্তাহে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে অন্তত ২৩জন, যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে কয়েকশো ব্যক্তিকে।