ঢাকা: ২০১৯-০৩-২১ ২১:৩১

Khan Brothers Group

মার্কিন সাহসী নারীর পুরস্কার পেলেন রোহিঙ্গা আইনজীবী রাজিয়া

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:১৫ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৮:৩৩ পিএম, ৮ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ (আইডব্লিউওসি) সম্মাননা পেলেন রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি নাগরিক রাজিয়া সুলতানা।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ বার্ষিক ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ’ অনুষ্ঠানে আইনজীবী রাজিয়ার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও।

১৯৭৩ সালে মিয়ানমারের মংদুতে রাজিয়া সুলতানার জন্ম। তার বয়স যখন ছয় মাস, তার পরিবার তখন দেশত্যাগ করে বাংলাদেশের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

আইনজীবী, শিক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠক রাজিয়াকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিশ্বশান্তি, মানবতা, ন্যায়বিচার, লিঙ্গ সমতা এবং নারী ক্ষমতায়নে অসাধারণ অবদানের জন্যে সম্মাননাপ্রাপ্তদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সাহসী হচ্ছেন তারা, যারা পরিবর্তনের জন্য সত্যিকার অর্থে কাজ করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, সামাজিক বঞ্চনা উপেক্ষা করে। যারা কাজের পরিবর্তে শুধু বক্তৃতা করেন তাদের আমরা সাহসী বলছি না। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে মানবতার জন্য যারা কাজ করছেন তাদেরকেই আজ সম্মানিত করা হল অন্যদের উৎসাহিত করার অভিপ্রায়ে।

সম্মাননা নেওয়ার পর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে একটি সমাবেশে অংশ নেন রাজিয়া সুলতানা।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মত নেতা থাকলে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের কেউ বিতাড়িত করতে পারত না। বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্বের কারণেই বাঙালিরা আজ স্বাধীন একটি ভূখণ্ড পেয়েছেন।

‘উইমেন অব কারেজ’ সম্মাননা পাওয়া বাকিরা হলেন- মিয়ানমারের নাও কনিয়া পাও, জিবুতির মোমিনা হুসেইন দারার, মিশরের মামা ম্যাগি, জর্ডানের কর্নেল খালিদা খালাফ হান্না আল তাল, আয়ারল্যান্ডের সিস্টার ওরলা ট্রেসি, মন্টেনিগ্রোর ওলিভেরা ল্যাকিচ, পেরুর ফ্লোর ডি মারিয়া ভেগা জাপাতা, শ্রীলঙ্কার মারিনি দি লিভেরা ও তানজানিয়ার আন্না আলোয়স হেঙ্গা।

রাজিয়া সুলতানা জীবনের বড় একটা সময় অতিবাহিত করেছেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে। ২০১৪ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে সরাসরি কাজ করছেন তিনি। ২০১৬ সালে নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা একশ জন রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেন রাজিয়া।

এ ছাড়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার বিষয়ে ‘উইটনেস টু হরর’ এবং ‘রেপ অব কমান্ড’ নামে দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তিনি।

শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য এবং নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখায় ২০০৭ সাল থেকে আইডব্লিউওসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৫টি দেশের ১২০ জন নারীকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

-জেডসি