ঢাকা: ২০১৮-১০-২১ ২২:১৭

Khan Brothers Group

মিশরে ১৫ জনের ফাঁসি কার্যকর

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:০৬ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১২:৫০ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ শুক্রবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট


ডেস্ক রিপোর্ট: সিনাই উপদ্বীপে হামলা চালিয়ে সেনাদের হত্যা ও সামারিক বাহিনীর গাড়ি ধ্বংসের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির ফাঁসি কার্যকর করেছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ।

মিশরের উত্তরাঞ্চলের দুটি কারাগারে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এ ঘটনাকে মিশরের বিতর্কিত নীতির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

অশান্ত সিনাই উপদ্বীপে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার অভিযোগ এনে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৩ সালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ওই হামলায় ৯ সেনা সদস্য নিহত হন। নিহতদের একজন ঊর্ধতন সেনা কর্মকর্তা ছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। সেনা আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর সিনাইয়ের ওই বিদ্রোহীদের দু`টি জেলে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। সেখানেই মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরা করা হয়েছে।

জানা যায়, আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে বুর্জ আল-আরব জেলে ১১ জনের ফাঁসি হয়। বাকি ৪ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে কায়রোর ১২০ কি.মি. পশ্চিমে ওয়াদি আল-নাটরুন কারাগারে। ২০১৫ সালের জুনে সেনা আদালত ওই ১৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের রায় দেয় সামরিক আদালত। গত ১৩ নভেন্বর সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখে। এরপরই তাদের ফাঁসি কার্যকরের তোড়জোর শুরু হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনাই উপদ্বীপে মিশরীয় সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে আইএস। এসব হামলায় বহু সেনা ও বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন।

সম্প্রতি সিনাই উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলে একটি মসজিদে হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত হন। ওই হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করা হয়, যদিও তারা দায় স্বীকার করেনি।

এরপর মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি যেকোনো মূল্যে আইএসকে পরাজিত করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

তবে মঙ্গলবারের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনাকে কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট আল-সিসির অধীনে আরো একবার মানবাধিকার হরণের দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন। ২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন আল-সিসি। তিনি ক্ষমতা দখলের পর বহু মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রাইভের পরিচালক মায়া ফোয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, এসব মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিচারের মৌলিক স্বচ্ছতা পূরণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে মিশরের আদালত; বিশেষ করে গণ-আদালত ও সামরিক আদালতের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

এদিকে এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার পর থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ব্রাদারহুড সমর্থকদের গণহারে ফাঁসি কার্যকর করছে প্রেসিডেন্ট সিসির সরকার। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর ওই বছর একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এর পরের বছর একজনেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তবে ২০১৩ সালের পর থেকে দৃশ্যপঠ পাল্টাতে থাকে। ২০১৪ সালে ১৪ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে দেশটির সরকার। এরপরের বছর ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১৬ কমপক্ষে ৪৪ জন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সিসির নেতৃত্বাধীন সরকার। জানা যায়, মৃত্যুদন্ডের বেশিরভাগ রায়ই এসেছে সিসির নেতৃত্বাধীন সামরিক আদালত থেকে। সূত্র: আল-জাজিরা