ঢাকা: ২০১৯-০১-২৪ ১৮:২২

Khan Brothers Group

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাজা আপিলেও বহাল

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:৫৪ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় রাষ্ট্রের গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার হয়ে সাজাপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের সাত বছরের সাজার রায় বহাল রেখেছে মিয়ানমারের আপিল আদালত। তাদের সাজার বিরুদ্ধে আপিল আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার মিয়ানমারের উচ্চ আদালতে এ দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক বলেন, আসামিরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি তাই তাদের আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের জন্য এটা উপযুক্ত শাস্তি। তারা সাংবাদিকতার নৈতিকতা মেনে চলেননি। আর ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করার যে অভিযোগ তারা করেছেন সে বিষয়েও আদালত নিশ্চিত হতে পারেনি।

রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিক এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন।  ওই আদালত যে রায় দেবেন সেটাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

আদালতের রায়ের পর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টেফেন এক বিবৃতিতে বলেন, ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ও’র ওপর যেসব নিপীড়ন চালোনে হচ্ছে আজকের রায় সেসব অন্যায়ের একটি। তারা এখনও কারাগারে থাকার একটাই কারণ, যারা ক্ষমতায় আছে তারা সত্যের মুখ বন্ধ করতে চাইছে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে’কে (২৮) সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল মিয়ানমারের নিম্ন আদালত।  

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর দুই পুলিশ কর্মকর্তা ওই দুই সাংবাদিককে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তাদের হাতে কিছু কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গঠন করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, বিদেশি গণমাধ্যমকে সরবরাহ করতে এসব তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে দুই সাংবাদিকের আইনজীবী বলেছেন, পুলিশই তাদের ফাঁসিয়েছে। কারণ, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি প্রকাশ করায় কর্মকর্তারা তাদের শাস্তি দিতে চাইছেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যার একটি ঘটনা অনুসন্ধান করেছিলেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক। পরে তাদের আটক করে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। রয়টার্স দাবি করে, রাখাইনে দশ রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়টি উদ্ঘাটন করেন এই দুই সাংবাদিক। সে জন্যই তাদের আশা ছিল যে দুই সাংবাদিকের তৎপরতা জনস্বার্থ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, আমরা অনুসন্ধানী রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিলাম, কারণ, এটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ ছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে যা ছিল: উত্তর রাখাইনের ইনদিন গ্রামে সেনাবাহিনী ও কিছু গ্রামবাসী মিলে সারিবদ্ধভাবে একদল রোহিঙ্গাকে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ওই ঘটনাই উঠে এসেছিল রয়টার্সের প্রতিবেদনে, যার তথ্য-উপাত্ত ওই দুই সাংবাদিকই সংগ্রহ করেছিলেন। রয়টার্স দাবি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের এটিই প্রথম কোনো প্রমাণ।

-জেডসি