ঢাকা: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১১:২৯

শিক্ষামন্ত্রী কি শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ?

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:৪২ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৩৯ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মো. আবুল বাশার হাওলাদার: ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁসে শিক্ষকদের সক্রিয় জড়িত থাকার কথা বলে আসছেন। তিনি কিছু না ভেবেই কথায় কথায় শিক্ষকদের ভৎসনা করে যাচ্ছেন। গণমাধ্যমের সামনে কথা উঠলেই তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষকদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যান। দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশ্ন ফাঁসে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন। শিক্ষামন্ত্রী জোরগলায় শিক্ষকদের দায়ী করছেন। এই সাংঘর্ষিক মতামত ভবিষ্যত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ১০ লক্ষাধিক শিক্ষকের অভিভাবক হলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছেন অহরহ। শিক্ষাক্ষেত্রে যেকোনো বিপর্যয়ের দায়-দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর চাপানো হয় এবং এ কাজটি করেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে নানা বিতর্ক আছে। এব্যাপারে অন্য লেখায় বলবো। এখন শুধু এটুকুই বলতে চাই, যারা শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের যোগ্যতা ও স্বভাব-চরিত্র নিয়ে ঢালাওভাবে মন্তব্য করছেন শিক্ষামন্ত্রী। আমি এ দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি।
তিনি শিক্ষার আধুনিকায়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতা ঢাকার জন্য শিক্ষকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন বলে আমি মনে করি। এদেশে শিক্ষকরা নানাভাবে বঞ্চিত ও অবহেলিত। তারপরও নিজেদের উৎসর্গ করছেন জাতি গড়ার কাজে। সেই শিক্ষকদের নিয়ে কটুক্তি করা, সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা শিক্ষামন্ত্রীর দৈনন্দিন কাজের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে যে সকল অনিয়ম ও বৈষম্য বিরাজ করছে তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে প্রতিয়মান হয়।

আমার মনে হয়, তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে পারছেন না। তিনি দীর্ঘ সময়ব্যাপী শিক্ষামন্ত্রীর আসন অলংকৃত করেও শিক্ষকবান্ধব হতে পারছেন না। শিক্ষকদের সমালোচনা ছাড়া তার অন্য কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। এখনই উপযুক্ত সময়, তার লাগামহীন বক্তব্য থেকে বিরত থাকা এবং শিক্ষকবিরোধী বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা।

মন্ত্রী মহোদয়কে মনে রাখতে হবে, তিনি শিক্ষা পরিবারের প্রধান ব্যক্তি। তাকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এবং প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষাঙ্গনে হতাশা ও অস্থিতিশীলতা নেমে আসবে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি শিক্ষকদের প্রতিপক্ষ নন। তার চিন্তা-চেতনায় গভীরতা থাকতে হবে, যা অনুসরণ করে শিক্ষকরা তাদের পেশাগত মানোন্নয়ন করতে পারেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি, তাদের নিয়ে আলোচনা করলে সকল সমস্যারই সমাধান সম্ভব।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন।

(মন্তব্য কলামের লেখা লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে এশিয়ানমেইল২৪.কম এর সম্পাদকীয় নীতির কোন সম্পর্ক নেই। কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ীও থাকবে না।)