ঢাকা: ২০১৮-১১-১৪ ২১:২৭

Khan Brothers Group

শীতকাল মানেই ধুলোর শহর

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:১৩ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৪:১৪ পিএম, ৫ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

ডেস্ক রিপোর্ট: যারা প্রতিদিন মিরপুর থেকে ধানমন্ডি, উত্তরা থেকে মতিঝিল, মতিঝিল থেকে গুলশান, মালিবাগ রামপুরা হয়ে বসুন্ধরা বা যে যেখানেই যাতায়াত করুক না কেন, তাদের কাছে শীতকাল এক বিভীষিকার নাম। মানে শীতকালে রাজধানীতে যে ধূলার আধিপত্য, তাতে আক্রান্ত না হয়ে উপায় নেই। এই অবস্থায় প্রত্যেকেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুরাও শিকার হচ্ছে এই ধূলার অদ্ভুত নির্যাতনে।

রাজধানীতে দিনদিন ধূলা দূষণ বাড়ছে। এতে নানা রোগব্যাধিও ছড়াচ্ছে রাজধানীবাসীর। বিশেষ করে ধূলা দূষণ রাজধানীবাসীর স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু বৃষ্টির দিন ছাড়া বছরের প্রতিটি দিনেই রাজধানী শহরের সড়কে ধূলা উড়ছে। ফলে সড়কে চলাচল করতে রাজধানীবাসীকে পোহাতে হচ্ছে মহাদুর্ভোগ। ছড়াচ্ছে নানা রোগ। যেমন শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা, সর্দি, কাঁশি, হাঁচি, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রাজধানীবাসী। বিশেষ করে এর প্রভাব বেশি পড়ে শিশুদের উপর। যার কারণে শিশুদের নিউমনিয়া, সর্দিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে এসব ধূলা গিয়ে কম্পিউটারসহ নানা ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর উপর আস্তর পড়ায় তা দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে অর্থনীতির উপরেও অনেক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূলার কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, আগে যা ধূমপানের মাধ্যমে হতো। আবার ধূলার কারণে নাক দিয়ে পানি ঝরা, চোখ জ্বালাও করতে পারে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে খাদ্যোৎপাদনে ব্যাঘাত ও শারীরিক বৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ধূলা দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি ও তার প্রয়োগ পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন।

রাজধানীর মগবাজার, মালিবাগ, রাজারবাগ, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, বঙ্গবাজার, মহাখালী, মিরপুর, গাবতলী ও সদরঘাটসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকায় ধূলার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে নগরবাসী অতিষ্ঠ। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাজধানী ঢাকা মহানগরী শিগগিরই ধূলার নগরে পরিণত হবে।

নানা কারণে প্রতিদিন রাস্তায় ধূলা উড়ছে। এই ধূলা চলন্ত যানবাহনের গতিতে বাতাসে মিশছে এবং দূষণের সৃষ্টি করছে। গ্যাস, পানি, টেলিফোন, পয়ঃনিষ্কাশন ইত্যাদি পরিষেবার ভূগর্ভস্থ সংযোগ প্রায় সবক্ষেত্রে রাস্তার নিচ দিয়ে গিয়েছে। তা খননে সৃষ্ট মাটি রাস্তার উপরেই স্তুপ করে রাখা হয়। নানাভাবে এই মাটি পুরো রাস্তা ও এর আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বাড়ি ও নানা অবকাঠামো নির্মাণের সময় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রাখা হচ্ছে যা থেকে ধূলা দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। দালান-কোঠা বা অবকাঠামো ভাঙ্গার সময়ও যথাযথ পদ্ধতি ও প্রতিরোধক ব্যবস্থা না নেয়ায় ধূলা দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। অনকে সময় এসব বাহনে মাটি, বালি, ইটসহ এধরনের জিনিস বহন করা হয় ঠিকমত রাস্তার পাশের নালা পরিষ্কার করার সময় নালা থেকে তোলা আবর্জনা রাস্তার পাশে জমিয়ে রাখা হচ্ছে। যা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং শুকিয়ে ধূলায় পরিণত হচ্ছে এবং ধূলা দূষণ সৃষ্টি করছে।

আরেকটা প্রধান কারণ, কোনো এলাকায় ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দীর্ঘদিন মেরামত করা হচ্ছে না। এসব ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় প্রচুর ধূলা উৎপন্ন হচ্ছে। বাতাস বা যানবাহনের গতিতে এসব ধূলা সবসময় বাতাসকে দূষিত করে রাখছে। আবার রাস্তা মেরামতেও দীর্ঘ সময় নেয়া হচ্ছে, যা থেকেও ধূলা উৎপন্ন হচ্ছে এবং অনুরূপভাবে ধূলা দূষণ তৈরি করছে।

রাজধানীবাসী চায় সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জনপোযোগী শহর। তাই অবিলম্বে ধূলা দূষণ করা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরী। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও তার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। নাগরিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে। রাস্তা খনন, মেরামত সব কাজের পর সৃষ্ট উচ্ছিষ্ট সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলতে হবে। দালান কোঠা, যেকোনো অবকাঠামো তৈরির সময় আচ্ছাদন বা দূষণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর বা খোলা জায়গায় রাখা যাবে না। ড্রেন পরিষ্কার করার সময় আবর্জনা রাস্তার পাশে জমিয়ে রাখা যাবে না। সব আবর্জনা দ্রুত যথাযথ স্থানে ফেলতে হবে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিবহনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফুটপাত নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ঢাকায় চলাচলকারী যানবাহনগুলো যথাযথ পরিষ্কার রাখতে হবে।

ও/র