ঢাকা: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ৯:৩৮

শেখ হাসিনা সড়ক, উন্নয়নের মাইলফলক

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:০৯ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৯:১৪ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ফিরে বিশেষ প্রতিনিধি: নদী মাতৃক এ দেশে তিতাস একটি নদীর নাম। ভারতের ত্রিপুরায় উৎপত্তি হলেও বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা দিয়ে অগ্রসর হয়ে ভৈরব-আশুগঞ্জের সীমানা পেরিয়ে মেঘনার সাথে মিশে গেছে তিতাস।

তিতাসকে অনেক কবি-সাহিত্যিকরা মেঘনার কন্যা হিসেবে অভিহিত করেন। তিতাসের দুইপাড়েই পত্তন, মনিপুর, সিমরাইল কান্দি, কল্যানপুর, লক্ষীমুরা, চর ইসলামপুর গ্রাম। সেসব গ্রামেই ছয় লক্ষাধিক মানুষের বাস।

শুধু কি গ্রাম, উজান-ভাটি মিলিয়ে ১০ ইউনিয়ন ও দুই উপজেলার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে এই তিতাস।  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এই নদী। আর এই বিচ্ছেদী জনগণের মিলন ঘটাতেই প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা সড়ক। সড়কটিকে ঘিরে দুই উপজেলার অন্তত ছয় লাখ মানুষ নতুন করে ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

কল্যানপুরের বাসিন্দা হাফেজ মুজিবুর রহমান মনে করেন, এই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২৫ থেকে ৩০ মিনিটেই সদরে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এতে অন্তত পক্ষে ৩ থেকে ৪ ঘ্ন্টার সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন তিনি।
 
আতকা পাড়ার মান্নান মিয়া বলেন, এই সড়ক ও সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয়দের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। যাতায়াত কিংবা বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সড়ক মধ্যগঙ্গার দুই পাড়ের মানুষের জন্য আশীর্বাদ।

এ সড়কটিকে দ্রুত সচল দেখতে চান মনিপুরবাসী জোবেদা। তিনি বলেন, যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য এ সড়কের বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন অনেক কষ্ট করে আত্বীয়-স্বজনদের এবং সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে। এ সড়কটি হয়ে গেলে তাদের জন্য কষ্ট অনেক লাঘব হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিদিন এই রাস্তায় অন্তত ৫৫ ট্রাক মাটি ফেলেন ট্রাক চালক আবু হানিফ। দৈনিক ৭০০ টাকায় মজুরীতে ওবায়দুরের মতো হাজারো শ্রমিক করছেন এই সড়কটি নির্মাণে। তারা বলছেন, এই গতিতে চললে এই বছরের মাঝামাঝিতে পাকা সড়ক পাবে তিতাস নদীর দুই পাড়ের লাখ লাখ মানুষ।

২০১০ সালের ১২ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার পরও অজ্ঞাত কারণে সড়কটি নির্মাণে বাঁধা দেন একদল কুচক্রী মহল বলে জানান কল্যানপুরবাসী তাহের উদ্দিন। তিনি বলেন, এই কুচক্রী মহলের হাত থেকে সড়কটির কাজ শুরু করতে লক্ষাধিক মানুষের মানববন্ধনের কথাও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, কথায় না কাজে বিশ্বাসী আমি। এই সড়কটি হলে এলাকায় শিল্পাঞ্চল তৈরি হবে, দূর হবে বেকার সমস্যা, পাশাপাশি গতি পাবে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতও।

মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, জেলার মানচিত্রটাই পাল্টে যাবে। একইসাথে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে সড়কটি দিয়ে বিজয়নগরের মানুষ খুব সহজভাবে জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবেন, টেন্ডার আহবান করা হবে ব্রিজ নির্মাণেরও।   

এ ব্যাপারে  বিজয় নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আফরোজ জানান, প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ২৪ ফিট প্রস্থ বিজয়নগরের সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরে স্থানীয় জনগণের দাবির মুখে স্থানীয় সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী সড়কটি প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনা’ নামকরণ করে এর ফলক উদ্বোধন করেন।