ঢাকা: ২০১৯-০২-১৬ ৯:২৬

Khan Brothers Group

সিনিয়র সম্পাদনা সহকারীর মৃত্যু, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:২৯ এএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সিনিয়র সম্পাদনা সহকারী এটিএম সিদ্দিকুল ইসলাম খন্দকারের মৃত্যু নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৬টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিদ্দিকুল ইসলাম। এর আগে তিনি বুধবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে ৭২ ঘণ্টার অবজারভেশনে রেখেছিলেন।

 

তার মৃত্যুর পর ডিউজের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী পত্রিকাটির অফিসে যান। সিদ্দিকুল ইসলামের সহকর্মীরা জানান, গত নভেম্বর মাসে তাকে অনৈতিকভাবে চাকরিচ্যুত করে, আলোকিত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এরপর তার পাওনা পরিশোধ না করে কর্তৃপক্ষ গত তিন মাস ধরে টালবাহানা করে যাচ্ছে। পাওনা টাকার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার গিয়েছেন।

 

এক পর্যায়ে এ বিষয় নিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু তার পাওনা পরিশোধ করেনি আলোকিত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। সিদ্দিকুল ইসলামের সহকর্মীদের অভিযোগ তিনি দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর জন্য আলোকিত বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন তারা।

 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সিদ্দিকের সহকর্মীরা জানান, আলোকিত বাংলাদেশ কার্যালয় একটি মেন্টাল টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে। কর্মরত সাংবাদিক-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত এই টর্চার শিকার হচ্ছেন। এর আগেও আরেক সম্পাদনা সহকারী মুরাদ হার্ট-অ্যাটাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি এখনও চিকিৎসাধীন আছেন।

 

এছাড়া সম্প্রতি স্পোর্টস এডিটর আজম মাহমুদকেও অবসরের নামে অনৈতিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনিও শারিরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ অসুস্থ্য। এসব কারণে অতিষ্ট হয়ে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

 

বিভিন্ন অজুহাতে গত সাড়ে পাঁচ বছরে ৬০ শতাংশ চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কর্মীরা। মাসের পর মাস বেতন বকেয়া রাখা হচ্ছে। ছাটাই করার সাংবাদিক কর্মচারীদের পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। অকারণে কয়েকজন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে থানায় জিডি করা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, সিদ্দিকুল ইসলাম আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকাটির কাছে ৫ লাখ টাকা পাবেন। এ নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকাটির এইচআর, সার্কুলেশন ম্যানেজার ও অ্যাকাউটেন্টসহ আমরা আলোচনা হয়েছে। তাকে যে গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তা পরিশোধ না করে ডাউন গ্রেডে বেতন দেয়া হচ্ছিল। তবে সে গ্রেডে হিসেব করেও ৫ লাখ টাকা পাওনা হয়েছিল। সে টাকাও পরিশোধ করা হয়নি।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিদ্দিক ভাই প্রাপ্য বিভিন্ন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার সব পাওনা পেলে আজকের এ দশা হতো না।

 

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা আলোকিত বাংলাদেশ ইউনিটের ডেপুটি চিফ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিদ্দীক ভাই টাকার অভাবে মারা গেছেন। তিনি আলোকিত বাংলাদেশের কাছে ১৬ লাখ টাকা পেতেন। পরবর্তীতে আলোচনা করে তাকে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তিনমাস তাকে ঘোরানো হয়। ফলে তিনি টাকার অভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তার মৃত্যুর জন্য আলোকিত বাংলাদেশ দায়ী।

 

সিদ্দিকুল ইসলাম খন্দকারের পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আলোকিত বাংলাদেশের সম্পাদক কাজী রফিকুল আলম বলেন, মৃত্যুর পরে এরকম অনেকেই বলে। আমাদের কাছে (সিদ্দিকুল) কোনো টাকা পাবে না। সোমবার সকাল ১১টায় বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

 

এস/এইচ