ঢাকা: ২০১৯-০৩-২২ ১৯:৫৮

Khan Brothers Group

সোহরাওয়ার্দীর আগুন নিয়ন্ত্রণে, খোলা মাঠে রোগীরা

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:৩১ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৯:৪১ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আগুন সোয়া তিনঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় লাগা এ আগুন রাত ৯টা ১৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীরা। আগুন লাগার পর থেকে মূমুর্ষূ, সাধারণ রোগী ও আত্মীয় স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

 

হাসপাতালের বাইরে চিন্তাগ্রস্ত রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কোথায় নেয়া হবে রোগীদের, তা জানেন না? রোগীরা আগের ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকবেন কিনা, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবে কিনা, এই নিয়ে তারা চিন্তাগ্রস্ত। বিশেষ করে আইসিইওর রোগীর স্বজনরা বেশি চিন্তায় পড়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের এ হাসপাতালে আগুন লাগার পর রোগীদের অনেকে আতঙ্কে বেরিয়ে আসতে থাকেন। মূমুর্ষূ রোগীদের স্বজনরাসহ আশপাশের সাধারণ মানুষ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে সব রোগীকে বের করে আনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

সাধারণ রোগীদের রাখা হয় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও সামনের মাঠে। আইসিইউতে থাকা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শিশু হাসপাতালে।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রায় ১২শ’ রোগী থাকলেও এদের মধ্যে কেউ হতাহত হয়নি। রোগীদের বর্তমানে হাসপাতালের মাঠে রাখা হলেও ধীরে ধীরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরইমধ্যে আইসিইওর ১০জন রোগীসহ অনেক রোগীকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। হাসপাতালের মাঠে অপেক্ষমাণ শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরে কাজ করে।

 

এদিকে আগুন লাগার ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার উত্তম কুমারকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন।

 

বর্তমানে হাসপাতালের ভেতরে কোন রোগী নেই। সন্ধ্যা ৬টার পর হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় বলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা জানান।

 

ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ খান বলেছেন, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত স্টোর রুম থেকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণতদন্ত করে আগুনলাগার বিষয়টি বিস্তারিত জানানো যাবে। আগুন পরিপূর্ণভাবে নিভেছে। স্টোরে অনেকগুলো কক্ষ থাকায় সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা এখন ধোঁয়া কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে আগুনটা বড় হচ্ছে না। আমরা এখন রুমগুলো চেক করে দেখছি।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে সংসদ অধিবেশন থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালটির নতুন ভবনের তৃতীয়তলা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তখনই রোগীদের অনেকে ভয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে একে একে দমকল বাহিনীর ১৬টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।

 

এদিকে আগুনের ফুলকি কোথাও আছে কিনা হাসপাতাল জুড়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চিরুণী তল্লাশি চালাচ্ছেন। এদিকে প্রাথমিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

 

এস/এইচ