ঢাকা: ২০১৯-০৩-২৩ ১৪:৪৬

Khan Brothers Group

হত্যাকারীর ৭৩ পাতার ইশতেহারে কি ছিল?

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:২১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে যখন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠবাদী যুবকটি তখন লোক গান ও সামরিক সঙ্গীত শুনছিলেন। এরপর একটি সরু গলিতে গাড়িটি পার্ক করে রেখে অস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যান।

তার গাড়ি থেকে অন্তত ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হেঁটে হেঁটে তিনি মসজিদের সামনের দরজায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।

এরপর তিনি মসজিদে ঢুকে পড়েন এবং সামনে যাকে পেয়েছেন, তাকেই গুলি করে হত্যা করেছেন। প্রথমে গুলি খাওয়ার পর একব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে মসজিদ থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফের ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

মসজিদটিতে তিনশতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। শুক্রবার উপলক্ষে জুমার নামাজ পড়তে এদিন দুই শতাধিক উপস্থিত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

বন্দুকহামলাকারী মুসল্লিদের ভিড় লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। কখনো কখনো টার্গেট ধরে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পূর্বাভাস দিয়ে ৭৩ পাতার ইশতেহারে তিনি লিখেছেন, তিনি মুসলমান এবং ধর্মত্যাগীদের ঘৃণা করেন। ধর্মত্যাগকারীদের তিনি রক্তের সঙ্গে প্রতারণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমি ২০১১ সালে নরওয়ের ওসলোতে ৭৭ জনকে হত্যাকারী অ্যান্ডারর্স ব্রেইভিকসহ অন্যান্য বন্দুকহামলাকারীদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

‘ডায়লান রুফসহ আরও অনেকের লেখা আমি পড়েছি। তবে সত্যিকার অর্থে তিনি নাইট জাস্টিসিয়ার ব্রেইভিকের কাছ থেকেই হামলার উৎসাহ পেয়েছেন।’

গণহত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনায় তিনি বলেন, অধিকাংশই দেখেন যে আমাদের ভূখণ্ডকে কখনোই অনুপ্রবেশকারীদের ভূখণ্ড হবে না। আমাদের মাতৃভূমি আমাদের এবং যখনক্ষণ পর্যন্ত শেতাঙ্গরা জীবিত থাকবে, ততদিন তারা আমাদের ভূখণ্ড বিজয় করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের লোকদের জায়গা দখল করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, সংজ্ঞায়িত করলে এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি একটি পক্ষপাতমূলক হামলা বলেই আমি মনে করি।

এ হামলার ঘটনায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উগ্র সমর্থক ক্যানডিস ওউনসের কাছ থেকে অনুপ্রারিত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ইশতেহারে যুবক বলেন, সার্বিকভাবে যিনি আমাকে বেশি প্রভাবিত করেছেন, তিনি হচ্ছেন ক্যানডিস ওউনস। যখনই তিনি কথা বলেন, আমি বিমোহিত হয়ে যাই।

ও/র