ঢাকা: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ৯:৪৪

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ফোর–জি

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:৪২ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:৩৮ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট


নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ফোর-জি বা চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা পাবেন গ্রাহকরা।  সেবাটি চালু হলে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে আরও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা।    

মোবাইল ইন্টারনেটে দ্রুতগতির সেবায় ফোরজি সর্বশেষ প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত থ্রিজির এটি পরের ধাপ। বাণিজ্যিকভাবে প্রথম এ সেবা চালু হয় ২০০৯ সালে; নরওয়ে ও সুইডেনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশেই ফোরজিসেবা চালু আছে। বাংলাদেশে সে হিসাবে এটি বেশ পরেই এলো।

দেশে ফোরজিসেবা চালু করবে গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও সরকারের মালিকানাধীন টেলিটক। মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ সেবা দেওয়ার লাইসেন্স মিলবে ২০ ফেব্রুয়ারি। সেদিন থেকে গ্রাহকদের নতুন এই সেবা দিতে অপারেটররা প্রস্তুত। সেবাটি চালু হলে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে আরও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা।

মঙ্গলবার ফোরজিসেবার বেতার তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করেছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক তাতে অংশ নেবে। ফোরজির জন্য রবি ও টেলিটকের কাছে যথেষ্ট তরঙ্গ থাকায় তারা নিলামে অংশ নেবে না। নিলামের পর ফোরজি চালুর জন্য সময় থাকবে এক সপ্তাহ।

অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থ্রি-জির তুলনায় ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি হবে কমপক্ষে দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন সিগন্যালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে থ্রি-জি ইন্টারনেটের গড় গতি ৩ দশমিক ৭৫ এমবিপিএস (মেগাবিটস প্রতি সেকেন্ড)। আর বিশ্বে ফোর-জি প্রযুক্তির গড় গতি ১৬ দশমিক ৬ এমবিপিএস। ভারতে ফোর-জির গড় গতি বর্তমানে ৬ দশমিক ১৩ এমবিপিএস। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশে ফোর-জির গতি ৯ থেকে ১৪ এমবিপিএসের মধ্যে। ফোর-জি গতিতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দুই দেশ হলো সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বজুড়ে ৩৮ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ৫ হাজার কোটি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে একেকটি দেশের ফোর-জি ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণ করে ওপেন সিগন্যাল।

বিটিআরসির হিসাবে, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটির বেশি। মোবাইলে এর সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি।

সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে- সব কাজ সেরে গ্রাহকপর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের বড় বিভাগীয় শহরে সেবাটি সময়মতো চালু করা যাবে। বিটিআরসির ফোরজি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে সেবাটি চালু করতে হবে; তিন বছরের মধ্যে সব উপজেলায়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের হাতে ফোরজির লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে। এই দিন থেকে সেবা চালু করতে তারা কারিগরিভাবেও প্রস্তুত।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন জানিয়েছিলেন চলতি বছরেই বাংলাদেশে ফোরজিসেবা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মার্চে নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ সেবার উদ্বোধন করার ঘোষণা দিয়েছিল বিটিআরসি।

তবে এ সেবা চালু হওয়ার আগে ২০টি প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

জেডসি