ঢাকা: ২০১৮-০৬-২৪ ১:২০

Khan Brothers Group

কিভাবে নিবেন আমন ধানের যত্ন

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:৫১ পিএম, ২৫ মে ২০১৮ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্যৈষ্ঠ মাস আমন ধান রোপণের মৌসুম। সঠিক নিয়ম-কানুন জানা থাকলে ভালো ফসল পেতে পারেন চাষিরা। এ জন্য খেয়াল রাখতে হবে জমির দিকে।

তাই আসুন জেনে নেই কিভাবে আমন ধানের যত্ন নিবেন:
১. নিচু এলাকায় বোরো ধান কাটার ৭-১০ দিন আগে বোনা আমনের বীজ ছিটিয়ে দিলে বা বোরো ধান কাটার সাথে সাথে আমন ধানের চারা রোপণ করলে বন্যা বা বর্ষার পানি আসার আগেই চারা সতেজ হয়ে ওঠে এবং পানি বাড়ার সাথে সাথে সমানতালে বাড়ে।
২. চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া ছিটিয়ে দিলে চারা তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং ফলন ভালো হয়।
৩. এ মাসের মধ্যেই রোপা আমনের জন্য বীজতলা তৈরি করতে হবে।
৪. রোদ পড়ে এমন উঁচু জমি নির্বাচন করে চাষ, মই, পানি দিয়ে ভালোভাবে থকথকে কাঁদাময় করে নিতে হবে।
৫. জমি উর্বর হলে সাধারণত কোনো রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না, তবে অনুর্বর হলে প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ২ কেজি জৈবসার মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৬. প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য ৮০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।
৭. বীজ বোনার আগে অঙ্কুরিত করে নিলে তাড়াতাড়ি চারা গজায়, এতে পাখি বা অন্য কারণে ক্ষতি কম হয়।
৮. বীজ বোনার আগে বীজতলায় এক স্তর ছাই ছিটিয়ে দিলে চারা তোলার সময় উপকার পাওয়া যায়।
৯. ভালো চারা পাওয়ার জন্য বীজতলায় নিয়মিত সেচ দেওয়া, অতিরিক্ত পানি নিকাশের ব্যবস্থা করা, আগাছা দমন, সবুজ পাতা ফড়িং ও থ্রিপসের আক্রমণ প্রতিহত করাসহ অন্যান্য কাজ সতর্কতার সাথে করতে হবে।
১০. চারা হলুদ হলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এরপরও যদি চারা হলুদ থাকে তবে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম করে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।
১১. জ্যৈষ্ঠ মাসে আউশ ও বোনা আমনের জমিতে পামরি পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। পামরি পোকা ও এর কিড়া পাতার সবুজ অংশ খেয়ে গাছের অনেক ক্ষতি করে। আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে হাতজাল, গামছা, লুঙ্গি, মশারি দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলে আক্রমণ কমানো যায়।
১২. আক্রান্ত গাছের গোড়া থেকে ৫ সেন্টিমিটার (২ ইঞ্চি) রেখে বাকি অংশ কেটে কিড়া ও পোকা ধ্বংস করা যায়। প্রতি গাছে ৪টি বয়স্ক পামরি পোকা বা প্রতি পাতায় ১৫টি কিড়া দেখা দিলে অথবা জমির শতকরা ৩৫টি পাতা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।