ঢাকা: ২০১৮-১১-১৪ ২২:০১

Khan Brothers Group

২০ বছর পর মুক্তি পেল অনুদানের ছবি

এশিয়ানমেইল২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:২৩ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার

ছবি: সংগৃহিত

ছবি: সংগৃহিত

বিনোদন প্রতিবেদক: চরকের বড়শিতে আটকে যাওয়া মানুষের হৃদকন্দন ও অদ্ভুত যাদুকরী শোষণের গল্পে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনাতন গল্প’।  ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে সরকারি অনুদান প্রাপ্ত এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গুণী অভিনেতা মাসুম আজিজ।

অবশেষে রূপালী পর্দার আলো দেখলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা ও জীবনদহনেরর কথামালায় নির্মিত হয়েছে ছবিটি। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনবোধের নানা সংকট নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করতে গিয়ে নির্মাতাকে পড়তে হয়েছে নানা সংকটে। তবে প্রধান সংকটই ছিল আর্থিক।

‘সনাতন গল্প’–এর নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন ২০ বছর আগে। এরপর অনুদান বরাদ্দ ছাড়ের জটিলতা নিয়ে ছবির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে সব জটিলতা কাটিয়ে সকল প্রক্রিয়া সমাপ্তির মধ্য দিয়ে মুক্তি পেল মাসুম আজিজ পরিচালিত এই প্রথম ছবি। গতকাল ১৯ অক্টোবর পাবনার ফরিদপুরের মধুমিতা সিনেমা হলে মুক্তি পেল ছবিটি।

আপাতত, ছবি মুক্তি দেওয়ার জন্য ঢাকার কোনো জুতসই প্রেক্ষাগৃহ না পাওয়ায় মাত্র একটি হলে, তাও আবার পানায় অবমুক্ত করা হলো ‘সনাতন গল্প’। তবে আগামী নভেম্বরে ঢাকাসহ সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাসুম আজিজ।

সমাজের অসহায় মানুষের শোষণ-নিপীড়নের কথোপকথনে ‘সনাতন গল্প’ ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মাসুম আজিজ। তারই প্রযোজনায় এ চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন সোহাগ শরীফ। গত মে মাসে সেন্সরবোর্ড থেকে ছবিটি ছাড়পত্র পায়। জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে সরকারি অনুদান ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন তিনি। ওই সময়ের নিয়ম অনুযায়ী এর বাইরে ১০ লাখ টাকার এফডিসির সহায়তা পাওয়ার কথা।’ ৯৭ সালের জুলাইয়ে নির্মাতা ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়।

এ প্রসঙ্গে মাসুম আজিজ বলেন, ‘অনুদান বরাদ্দ পাওয়ার পরই তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রথম কিস্তিতে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতে পেয়েছিলাম। সিনেমাটির ২৫ ভাগ দৃশ্য ধারণের পর প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কারণে শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। তখন সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন- রওশন জামিল, শমী কায়সার, তৌকীর আহমেদ, নাজমা আনোয়ার, শহিদুল আলম সাচ্চু, ফজলুর রহমান বাবু প্রমুখ। মাঝে অনেক চেষ্টা করেও আর্থিক কারণেই শুটিং করতে পারিনি। আগে যাদের নিয়েছিলাম, তাদেরও আর রাখতে পারিনি। পুরোনো ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজও বাদ হয়ে যায়।’

অবশেষে ২০১৬ সালে বরাদ্দের বাকি ৮ লাখ টাকা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়ার পর এই টাকার মধ্যেই ছবির অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে হয়। তবে শুরুতেই এফডিসি কর্তৃপক্ষ আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এফডিসির সে সাপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে। এবার নতুনভাবে নির্মিত এ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অভিনয় করেছেন মাসুম আজিজ, সাবিহা জামান, উৎস জামান, জয়রাজ, তুষার মাহমুদ, তাহমীনা কৃতিকা প্রমুখ। অল্প বাজেটের কারণে পরবর্তীতে ছবিতে তেমন কোনো তারকা অভিনয়শিল্পী রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

ছবিতে দেখা মিলবে- এ যেন এক বিচিত্র ‘ফাঁদ’। মানবকলে মানবগ্রাসের অমানবিকতা। নিরন্ন মানুষকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে চুষে নেয়া হয় তার শক্তি ও কর্মক্ষমতা। এমনি একেকটি জীবন পতিত হচ্ছে শোষণের গেঁড়াকলে। আদি দাস প্রথা আছে এখনও অন্য নামে অন্য চেহারায়। নদীতে নাকি মাছ নেই, তবুও নয়া নৌকো বানায় মহাজন। খুঁজে খুঁজে শক্ত সামর্থ্য জেলেদের জোগার করা হয়। তারপর তাদের বেঁধে ফেলা হয় চরকের বড়শিতে। মৎসজীবি অসহায় শ্রমিকদের সাথে মহাজনের লেনদেনের হিসাবটা এ রকমই। জেলেদের চার মাস থাকতে হয় গভীর সমুদ্রে।

বাকী আটমাস জাল মেরামত আর নৌকা মেরামতের নামে বেগার দিতে হয় মহাজনের বাড়িতে। বড় গাঙ্গ থেকে ধরে আনা মাছ সমান চার ভাগে বণ্টন হয়। একভাগ নৌকা, একভাগ জাল, একভাগ মহাজনী অর্থাৎ মূলধন আর কেবল মাত্র এক ভাগ জেলেদের। এই বণ্টনে একেকজন জেলে যে পরিমাণ মাছ ভাগে পায় তাতে বছরে তাদের দুই মাসের খোরাকই চলে না। বাধ্য হয়ে হাত পাততে হয় মহাজনের কাছেই। মহাজন অবশ্য তফিল নিয়েই বসে আছেন। পরের বছরের জন্য খাতায় নাম লেখাও, যে কয়টাকা প্রয়োজন নিয়ে যাও। এভাবেই বছরবান্ধা শ্রমিক হয়ে যায় জীবনবান্ধা। একবার এই ফাঁদে আটকে গেলে মৃত্যু ছাড়া ছুটবার আর কোন পথ খোলা থাকে না। যদি কেউ কখনও সে চেষ্টা করে তার পরিণতি হয় ভয়ংকর।  এমনি জীবনগভীর গল্পে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘সনাতন গল্প’।

প্রসঙ্গত, আশির দশক থেকে দেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সু-অভিনয়ের মধ্য দিয়ে খ্যাতি কুড়িয়েছেন অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার ও নাট্য নির্মাতা মাসুম আজিজ। তার অভিনয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে-‘গহীনে শব্দ’, ‘রুপগাওয়াল’, ‘ঘানি’, ‘গেরিলা’। তিনি ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রের সু-অভিনয়ের জন্য ২০০৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

ও/র

Hip's Wear Fashion